ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী।
সোমবার ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোশাল মিডিয়াতে এ ঘোষণা দেন।
“মিঠুনদার অসাধারণ সিনেমাটিক জার্নি প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। দাদাসাহেব ফালকে সিলেকশন জুরি কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় সিনেমায় অবিস্মণীয় অবদান রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর“, অশ্বিনী বৈষ্ণব তার এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টের পোস্টে বলেন।
৮ অক্টোবর ৭০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তীকে পুরস্কারটি প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বাঙালি হিসাবে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
এই পুরস্কারের জন্য তার নাম ঘোষণা হওয়ায় আপ্লুত বলে গণমাধ্যমকে জানান ‘ডিসকো ড্যান্সার’ তারকা মিঠুন।
“আমার কাছে কোনও ভাষা নেই। আমি হাসতেও পারছি না, কাঁদতেও পারছি না। এটা অনেক বড় ব্যাপার আমার জন্য। আমি কল্পনাও করতে পারিনি। খুবই খুশি। কলকাতার একটা ছেলেকে যে ভালোবাসা মানুষ দিয়েছেন, সেটা অনেক বড় ব্যাপার আমার জন্য। আমি আমার পরিবার ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমার সমস্ত ভক্তদের উৎসর্গ করতে চাই।,” বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন এই অভিনেতা।
এর আগে ২০২৪ সালে মিঠুন ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত হয়েছিলেন ।
#WATCH | Kolkata: On being announced to be conferred with the Dadasaheb Phalke award, Actor and BJP leader Mithun Chakraborty says "I don't have words. Neither I can laugh nor cry. This is such a big thing… I could not have imagined this. I am extremely happy. I dedicate this… pic.twitter.com/tZCtwLSyxV
— ANI (@ANI) September 30, 2024
১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের হাত ধরে শুরু হয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ার। প্রথম সিনেমা ‘মৃগয়া’-তে অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালে আরও দুইবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
বলিউডে পা রাখার পর, ১৯৮২ সালে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ সিনেমা মিঠুনকে পরিণত করে মহাতারকায়। সিনেমাটি ভারত এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছিল।
মিঠুন তার ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন। তিনি হিন্দি, বাংলা, ওডিয়া, ভোজপুরি, তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনও বেশ বর্ণময়। অভিনয়ের জগতে আসার আগেই রাজনীতি করতেন।
কলকাতায় থাকতে নকশাল আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন, একথা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছেন এই ৭৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
এই রাজনীতির জন্যই তাকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। বলা হয়, মিঠুনকে নাকি দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে সেসময়।
কলকাতা ছেড়ে আরব সাগরের পাড়ের শহর মুম্বাই গিয়ে একই সাথে হিন্দি ও বাংলা ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেলেও রাজনীতির সঙ্গে তার সংযোগ কখনই পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি ।
অভিনয় ক্যারিয়ারের একেবারে মধ্যগগনে সিপিএমের সাথে ছিল তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এমনকি সে সময়কার জনপ্রিয় সিপিএম নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর হয়ে নির্বাচনের প্রচারেও মিঠুনকে বারবার দেখা গিয়েছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর মিঠুনের যোগাযোগ বাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে রাজ্যসভার সদস্য করেন। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি বেশি দিন।
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মিঠুন যোগ দেন বিজেপি-তে। দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তোলেন মিঠুন। পর্দার সুপারস্টার হিরোর নানা মুখরোচক ডায়লগ নিয়ে দারুণ চর্চা শুরু হয়ে যায় রাজনীতিতে। একের পর এক সভা-সমাবেশে মিঠুনের ভাষণ দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিজেপি কর্মীদের কাছে।



