জোহরান মামদানি, যুক্তরাষ্ট্রে এখন আলোচিত নাম। নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটির পার্টির টিকেট এরই মধ্যে িনশ্চিত করেছেন তিনি। তাতে হয়ে উঠেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণর লক্ষ্য। ছেড়ে কথা কইছেন না মামদানিও; প্রেসিডেন্টকেও পাল্টা হুঁশিয়ার করছেন।
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে মামদানিকে বলতে শোনা গেছে, তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে তাতে কাজ হবে না, লড়াইয়ের মাঠ তিনি ছাড়ছেন না।
ডেমক্রেটদের মধ্যে ‘সোশালিস্ট’ হিসাবে পরিচিত পাওয়া মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৩৩ বছর বয়সী এক যুবক। তার মা খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার, বাবা উগান্ডার শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানি। বাবা-মা দুজনের সূত্রেই মামদানির শিকড় ভারতে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটদের প্রাইমারিতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে তিনি দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন এই সপ্তাহেই।
তারপরই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথার শরে বিদ্ধ করেন মামদানিকে। তাকে ‘কমিউনিস্ট পাগল’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তার চেয়ারা, বাচনভঙ্গী নিয়েও কটূ মন্তব্য করেন।
পাল্টা আক্রমণে মামদানি এক সমাবেশে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বিভেদের আগুন উসকে দিচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক শ্রেণীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলছে, তা সামনে আনার জন্যই নিজের ওপর আক্রমণ বলে দাবি করেন মামদানি।
তিনি বলেন, “গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে আমাকে গ্রেপ্তার করা উচিৎ। তিনি বলেছিলেন যে আমাকে নির্বাসিত করা উচিৎ। তিনি বলেছিলেন যে আমার নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিৎ।
“আমি কে, কোত্থেকে এসেছি, দেখতে কেমন, সেটা আসল কথা নয়, আসলে আমি যে কাজটি করছি, লড়াই চালাচ্ছি, তা থেকে আমার মনোযোগ সরাতে চান। কিন্তু আমার লড়াই চলবে।”
ট্রাম্পের আনা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়েও সমালোচনা করেন মামদানি। তিনি বলেন, “এটি এমন আইন, যা ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে খাবার চুরি করবে।”
মামদানি জনপ্রিয়তা তাকে নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে জিতে মেয়র হওয়ার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। যদি তিনি জেতেন, তবে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র।
ট্রাম্প এরই মধ্যে বলেছেন, তিনি মামদানিকে নিউ ইয়র্ক ‘ধ্বংস’ করতে দেবেন না।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি



