দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী; তা নিয়ে জনগণকে সতর্ক করেছেন তিনি। শান্তি ফেরাতে নিজ থেকে ছাড় দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণিতে তার যে বাড়িতে আগের রাতে হামলা হয়েছিল, রবিবার দুপুরে সেই বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা জানান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ি ভেঙেছে, আরও ভাঙুক; যখন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমার গাড়ি ভেঙেছিল। আরও ভেঙে যদি দেশে শান্তি স্থাপিত হয়, দেশের কল্যাণ হয়, আমি সব সময় রাজি আছি।”
শনিবার মধ্যরাতে কাদের সিদ্দিকী ঘরে থাকা অবস্থায় তার বাড়িতে হামলা হয়। ১০-১৫ জনের একটি দল ওই বাড়িতে ইট ছোড়ে। বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকে দুটি গাড়িও ভাঙচুর করে।
হামলাকারীদের না চেনার কথা জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “কারা করেছে, জানি না। ১০-১২ জন লোক, তার মধ্যে মনে হয় বেশি বাচ্চা ছিল। ঢিল মেরেছে, গাড়ি ভেঙেছে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দিকটি তুলে ধরেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে মঞ্চ ৭১–এর সভায় আমাদের নেতা, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী (সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী) আলোচক হিসাবে গিয়েছিলেন। তাদের সব আলোচককে গ্রেপ্তার করেছে। যারা শ্রোতা হিসেবে গিয়েছিলেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
“কিন্তু যারা মব সৃষ্টি করেছেন, যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের কিছু বলা হয়নি। এটা একটা ন্যায়নীতির ব্যত্যয়, আইনের ব্যত্যয়। এখান থেকে আমি সরকারকে সরে আসতে বলব। আমার বাড়ির ওপর হামলার মধ্য দিয়েই এই চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করা হোক।”
“এটা সরকারের কাছে আমার নিবেদন। দেশবাসীর কাছে আমার নিবেদন যে আপনারা জাগ্রত হন, রুখে দাঁড়ান। এ রকম অন্যায়কে সহ্য করলে পরবর্তী বংশধরদের জীবন–সম্পদ–সম্মান—সব হুমকির মধ্যে পড়বে,” বলে তিনি।
এর মধ্যদিয়ে ষড়যন্ত্রে ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়ে বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ খুঁজছে, সেই সুযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিচ্ছে কি না, আমি ঠিক বলতে পারব না।
“তবে আমার মতো মানুষের, যাকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব দিয়েছে, আমার বাড়ি যদি নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের বাড়ি নিরাপদ কেমনে হয়?”
অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর এখন এমন ঘটনা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
“কোটাবিরোধী আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরে আমরা এই স্বৈরাচারী মনোভাব আশা করি নাই। আওয়ামী লীগ যদি স্বৈরশাসক হয়, তাহলে আজকের কর্মকাণ্ডকে আমরা কী বলে অভিহিত করব?’
এক সময় আওয়ামী লীগ করলেও আলাদা দল গঠনের পর বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনা সরকারের রোষের মুখে পড়ার কথাও বলেন কাদের সিদ্দিকী।
“আওয়ামী লীগ আমাদের বহু প্রোগ্রাম করতে দেয় নাই। তারপরেও যদি সবাইকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানো হয়, তা হলে তো আমি মনে করব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য, ধ্বংস করার জন্য এ কোনও ষড়যন্ত্র কি না?”
বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানান কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ভাই টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ সিদ্দিকী।



