Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

দেশকে তামাকমুক্ত করতে ওরস্যালাইনের মতো আবিষ্কার দরকার : শফিকুল আলম

ss-shafiqul-alam-about-tobacco-12032025
[publishpress_authors_box]

দেশকে তামাকমুক্ত করতে ওরস্যালাইনের মতো নতুন কোনও আবিষ্কার দরকার বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

বুধবার ‘তামাক পণ্যের কার্যকর কর ও মূল্যবৃদ্ধি’ শীর্ষক এক কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুর (ডর্‌প) যৌথভাবে এই কর্মশালা আয়োজন করে। রাজধানী ঢাকার পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে এ কর্মশালা হয়। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, “ওরস্যালাইনের ইনোভেশন (আবিষ্কার) এদেশে হয়েছে এবং এটা পুরো পৃথিবীব্যাপী ৫ কোটি লোকের জীবন বাঁচিয়েছে। আমাদের এখানে ক্ষুদ্রঋণের পথপ্রদর্শন করেছেন প্রফেসর ইউনূস।”

এসময় বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে ওরস্যালাইনের মতো নতুন কোনও আবিষ্কার দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম আফ্রিকার কঙ্গোসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখছে বলে জানান শফিকুল আলম। সুইজার‌ল্যান্ডের দাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটা ঘটনাও তুলে ধরেন তার প্রেস সচিব।

শফিকুল আলম বলেন,“আমরা যখন দাভোসে গেলাম তখন কঙ্গোর লিডার, বেলজিয়ামের কিং এসে বলছে যে, কঙ্গোর যুদ্ধবিধ্বস্ত জায়গাগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

“তারা বলেছেন, এর ফলে যারা যুদ্ধে ছিল তাদের অনেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আর যুদ্ধে যাচ্ছে না। এরকম ১১ হাজার যোদ্ধা যুদ্ধ ছেড়ে দিয়েছে। তারা শান্তির পথে এসেছেন ক্ষুদ্রঋণের বিস্তারের কারণে।”

অনেকে দেশে তামাক চাষ বন্ধের বা কমানোর প্রস্তাব তুললেও তা কোনও সমাধান নয় বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

শফিকুল আলম বলেন, “দেশে যে তামাক চাষ হয়, এটা হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। কারণ তিস্তা নদীর দুই পাড় ও কুষ্টিয়ার মিরপুরে অর্থকরি ফসলই হচ্ছে তামাক চাষ। এসব কৃষকদের কাছে বিকল্প ফসলও নেই। আপনি যদি কালকে বলেন, আপনি তামাক চাষ বন্ধ করেন, তাও সম্ভব না। কারণ আপনি তাকে বিকল্প কী দিচ্ছেন।

“তাহলে তো সত্যিকার অর্থে তাকে আপনি আরও দারিদ্র্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। যেতেতু এটাই তার অর্থকরি ফসল। এটা দিয়েই তার লাভ হচ্ছে। এটার ওপরেই সে বেঁচে আছে।”

“সবচেয়ে ভালো হয় যদি আমরা দেশব্যাপী প্রচারণা করে সবাইকে নিয়ে একটা সিগারেট মুক্ত একটা সমাজ করতে পারতাম”, বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

শফিকুল আলম এসময় জানান, শহর-গ্রাম সব জায়গায়ই মেয়েদের ধূমপান বেড়েছে বলে তার মনে হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, “আমাকে বড় সিগারেট কোম্পানির একজন বলেছেন যে বাংলাদেশ একটি বড় কান্ট্রি যেখানে মেয়েদের স্মোকিং খুব দ্রুতহারে (র‌্যাপিডলি) বাড়ছে।

“ওই কর্মকর্তা সম্প্রতি আমাকে বলেছেন, বেনসন অ্যান্ড হেজেস খুব হাল্কা চিকন একটা সিগারেট বাজারে লঞ্চিং করেছে। উনি আমাকে বলেছেন, ওইটা লঞ্চই (বাজারজাত) করেছেন মেয়েদেরকে টার্গেট করে। আপনি দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে যান প্রত্যেকটা…..সিগারেট নিচ্ছেন।”

তবে এসময় তিনি যে কারও সিগারেট খাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “এভরি ওয়ান ইজ ফ্রি টু স্মোক… এটা তার নিজস্ব স্বাধীনতা।”

শফিকুল আলম বলেন, “পুরুষদের মধ্যেও স্মোকিং বাড়ছে, মেয়েদের মধ্যেও স্মোকিং বাড়ছে। বাংলাদেশে এটা ক্যাম্পাসগুলোতেও হচ্ছে। নন ক্যাম্পাসগুলোতেও হচ্ছে। আমি দেখেছি যে গ্রামের ছেলে মেয়ে শুরুই করেন সাত টাকা দামের সিগারেট দিয়ে।”

তার মতে, দেশে তামাক বন্ধ করে দেওয়ার মতো ভালো কোনও সমাধান নেই। সবচেয়ে ভালো হয় দেশব্যাপী প্রচারণা চালিয়ে সিগারেট বন্ধ করা গেলে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক নীতি) ড. মো. আবদুর রউফ।

তিনি বলেন, “এই অর্থ বছরে সিগারেটের মূল্য যা বাড়ানো হয়েছে তা গত ২৪ বছরেও হয়নি। সিগারেটের মূল্য বাড়িয়ে তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।”

ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালা।

তিনি বলেন, সর্বশেষ পাঁচ অর্থ বছরে তামাকবিরোধী নাগরিক সংগঠনের প্রস্তাব মতে কার্যকর করারোপ করা গেলে ১১ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হতো।

দৌলত আকতার মালা বলেন, প্রস্তাবনা অনুসারে সিগারেটের দাম বাড়ানো গেলে সিগারেটের ওপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার (৬৭ শতাংশ) অপরিবর্তিত রেখেই আগামী অর্থব ছরে চলতি অর্থ বছরের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্‌প-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ- এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। সিগারেট বিক্রির সিংহভাগ প্রায় ৯০ শতাংশ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের দখলে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাথাপিছু সিগারেট বিক্রি বিগত বছরগুলোতে প্রায় একইরকম থাকলেও এই দুই স্তরে সিগারেট বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, আগামী অর্থ বছরে নিম্ন ও মধ্যম- এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে এই নতুন তিন স্তরের সিগারেটের দশ-শলাকার একেক প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৯০ টাকা, ১৪০ টাকা, ও ১৯০ টাকা ধার্য করতে হবে। এই প্রস্তাবনা আগামী বাজেটে প্রতিফলিত করা গেলে প্রায় ১৭ লাখ তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found