রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ডে এলাকার নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে দ্রুততম সময়ে এই বিচার শেষ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বাসস জানিয়েছে, আইন উপদেষ্টা শনিবার তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানিয়েছেন।
একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, মিটফোর্ড এলাকায় লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামের ওই ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ীকে হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত বুধবার রাজধানীর মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। হত্যার আগে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও ইট-পাথরের আঘাতে মাথা ও শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ, মামলার এজাহার, নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এমন বর্ণনা উঠে এসেছে।
আইন উপদেষ্টা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে এবং ধারা ১০-এর অধীনে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাসস জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে পুরান ঢাকার মিল ব্যারাকে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) এবং ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় জড়িত মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে দু’জনকে র্যাব অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছেও দু’জন ধরা পড়েছে। গত রাতেও একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ডিবির টিমও কাজ করছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা অনেক বেশি অসহিষ্ণু হয়ে গেছি। এই মানসিকতা কমাতে হবে। সবাইকে অনুরোধ করছি, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। কোনো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ চাঁদাবাজি। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
আলোচিত এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে নিথরভাবে পড়ে থাকা লাল চাঁদের শরীরের ওপর কয়েকজন ব্যক্তিকে কংক্রিটের বড় খণ্ড দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।
এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রথম আলো জানিয়েছে, নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। কেউ কেউ এটাকে আবার ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল শুক্রবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে। পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
শনিবার ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ কয়েকটি সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি। পাশাপাশি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি। বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে।



