Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

টানা ৪ দিন বন্ধ চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতাল, যা বলছে মন্ত্রণালয়

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
[publishpress_authors_box]

ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কর্মচারীদের সংঘর্ষের জেরে টানা চারদিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে নানা ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেবাবঞ্চিত সব রোগীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী বন্দোবস্ত হিসেবে রোগীদের নিকটস্থ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল ১০টার পর তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতরা। এক পর্যায়ে সেদিন আহতদের সঙ্গে যোগ দেন বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ে আহতরা কেবল হাসপাতালে ভাঙচুর নয়, চিকিৎসকদের বাসভবনেও হামলা চালিয়েছে।

চিকিৎসাধীন আহতদের হামলায় চিকিৎসক, কর্মচারীদের অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম।

বুধবারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওইদিন সকাল থেকেই চিকিৎসক, কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে হাসপাতালে আসা বন্ধ করেছেন কর্মচারীরা।

শনিবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা মূল ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে যেতে পারছেন না। কেউ কেউ রাস্তার ওপর অপেক্ষা করছেন, কেউবা ফিরে যাচ্ছেন।

ঢাকার ভাসানটেক এলাকা থেকে চোখে মাছ ধরার বরশি নিয়ে এসেছে আট বছরের আবদুল্লাহ আল নোমান। কিন্তু স্বজনরা হাসপাতালে এসেও ঢুকতে না পেরে পরে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চলে যান।

নোমানের বাবা আজহারুল ইসলাম বলেন, “কেমনে জানি এই বরশি চউখখে আইটকা গ্যাছে। খোলার লাইগা হাসপাতালে নিয়া আসছি। এখন দেখি হাসপাতাল বন্ধ।”

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিস্থিতি সার্বিক পরিস্থিতি জানতে শনিবার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলমের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যরা গত ২৯ মে বৃহস্পতিবার থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কারণ হাসপাতালের ভেতরে তারা আক্রান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সকল সেবাদানকরীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিধায় গত ২৯ মে থেকে হাসপাতালে সেবাদান বন্ধ হয়ে যায়। আর এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধিকাংশ রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন, শুধুমাত্র জুলাই যোদ্ধারাই বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব সেবা বন্ধ হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের আহতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় সারাদেশ থেকে চক্ষু চিকিৎসার জন্য আগত রোগীদের সেবাদান কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

“আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেবাবঞ্চিত সকল রোগীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

এই অচলাবস্থা নিরসনে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সস্টিটিউটে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, “প্রতিনিধিদল আহতদের সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ অন্যান্য সেবাদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করছেন। এই মুহূর্তে আমরা আলোচনার একটি ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।

“চিকিৎসা সেবাদানের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হলেই হাসপাতালের সেবাদানকারীদের মাধ্যমে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা পুনরায় শুরু করার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বন্দোবস্ত হিসেবে চক্ষু চিকিৎসার রোগীদের নিকটস্থ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে নার্স ও কর্মচারীদের বাগবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি চার জনের আত্মহত্যার চেষ্টা ও তা ঘিরে উত্তেজনার পর হাসপাতালের পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে ওঠে। সবশেষ গত মঙ্গলবার (২৭ মে) কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাহ্য পদার্থসহ হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, “তারা আমাদের জিম্মি করে ফেলেছে, যে ডাক্তার নার্স গত নয় মাস সেবা দিয়েছে আজ তাদের গায়ে তারা হাত তুলেছে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত