Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

সান্তোস-সাও পাওলোর পথ ধরে উড়ছে ব্রাজিলের ৪ ক্লাব

পিএসজিকে হারিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বোতাফোগো। ছবি : এক্স
পিএসজিকে হারিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বোতাফোগো। ছবি : এক্স
[publishpress_authors_box]

ক্লাব বিশ্বকাপ মাতাচ্ছে ব্রাজিলের ৪ ক্লাব। আতলেতিকো মাদ্রিদের মত বড় দল বাদ পড়লেও নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে পালমেইরাস, বোতাফোগো, ফ্ল্যামেঙ্গো। গ্রুপ ‘এফ’-এ শীর্ষে আছে ফ্লুমিনেন্স। তাদেরও নকআউট নিশ্চিত অনেকটা। ইউরোপিয়ান নামি দলগুলোকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপে রীতিমতো উড়ছে ব্রাজিলের ক্লাবগুলো। ফিফা বিশ্বকাপে যেমন লড়াই হয় লাতিন ও ইউরোপের-এবারের ক্লাব বিশ্বকাপেও ব্যাপারটা তেমনই।

ক্লাব বিশ্বকাপ একটা সময় খেলা হত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামে। তখনও কিন্তু দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো। ১৯৬২ সালের দুই লেগের ফাইনালে ব্রাজিলের সান্তোস প্রথম লেগে ৩-২ গোলে বেনফিকাকে হারানোর পর দ্বিতীয় লেগে জিতেছিল ৫-২ ব্যবধানে। পেলে দুই লেগ মিলিয়ে করেন ৫ গোল। পরের বছরও এসি মিলানকে হারিয়ে শিরোপাটা জেতে সান্তোস।

১৯৬২ সালের ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে বেনফিকার বিপক্ষে ৫ গোল করেছিলেন পেলে।

১৯৮১ সালে শক্তিশালী লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছিল ব্রাজিলের আরেক ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো। ১৯৮৩ সালে জিতে গ্রেমিও। ’৯০ দশকে বার্সেলোনা আর এসি মিলানের দল দুটি ছিল স্বপ্নের মত। অথচ ১৯৯২ সালে ইয়োহান ক্রুইফের বার্সেলোনা আর ১৯৯৩ সালে ফাবিও ক্যাপেলোর মিলানকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল সাও পাওলো।

সান্তোস আর সাও পাওলোর পথ ধরেই এবার আলো ছড়াচ্ছে ৪ ব্রাজিলিয়ান ক্লাব। দেখে নেওয়া যাক দলগুলোর পারফর্ম্যান্স।

পালমেইরাস

৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ ড্রতে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’র শীর্ষ দল পালমেইরাস। পর্তুগালের পোর্তোর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র’র পর পালমেইরাস ২-০ গোলে হারায় আল আহলিকে। শেষ ম্যাচে মেসির ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও ড্র করে ২-২ গোলে।

৩ বারের কোপা লিবারতাদোরেস আর ১২ বারের ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’ জয়ী দলটির বর্তমান কোচ পর্তুগালের আবেল ফেরেইরা। দলটিতে ইউরোপিয়ান কোনো ফুটবলার নেই, তবে আর্জেন্টিনা আর উরুগুয়ের ফুটবলার আছেন ৩ জন করে। আল আহলির বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচটিতে একটি গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন ২৪ বছর বয়সী তরুণ আলবার্তো লোপেস।

বোতাফোগো

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজি ক্লাব বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। সেই পিএসজিকে পরের ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দেয় বোতাফোগো। ২০২৪ সালের কোপা লিবারতাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’ জয়ী দলটির তারকা ইগর জেসুস করেছিলেন একমাত্র গোলটি। ব্রাজিলের হয়ে এরই মধ্যে ৪ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন জেসুস।

বোতাফোগোয় খেলছেন আর্জেন্টাইন তারকা হোয়াকিন কোররেয়া। এছাড়া দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ব্রাজিলিয়ান, একজন আছেন অ্যাঙ্গোলার ডিফেন্ডার বাসতোস। শেষ ম্যাচে হারলেও বোতাফোগো নিশ্চিত করে ফেলেছে নকআউট।

ফ্ল্যামেঙ্গো  

ফ্ল্যামেঙ্গো পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপসেরা চেলসিকে। তাতে ৩৩ বছর পর প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কোনো দলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল। ১৯৯২ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ২–১ গোলে জিতেছিল সাও পাওলো।

৩ বারের কোপা লিবারতাদোরেস ও ৭ বারের ব্রাজিলিয়ান  সিরি ‘এ’ জয়ী দলটিতে একমাত্র ইউরোপিয়ান হিসেবে খেলছেন ইতালির জর্জিনহো। নাপোলি, চেলসি, আর্সেনালের মত দলে খেলা জর্জিনহোর প্রায় সব সতীর্থই ব্রাজিলিয়ান। তাদের অন্যতম ব্রাজিলের হয়ে ৬৬ ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার দানিলো আর ২৫ ম্যাচ খেলা ফরোয়ার্ড এভারতন। ৩৯ বছরের ফেলিপে লুইস প্রধান কোচ ফ্ল্যামেঙ্গোর।

ফ্লুমিনেন্স

গ্রুপ ‘এফ’-এ শীর্ষে আছে ফ্লুমিনেন্স। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ড্র করেছে তারা। পরের ম্যাচে ফ্লুমিনেন্স ২-০ গোলে হারায় জাপানের উলসানকে।

১ বারের কোপা লিবারতাদোরেস ও ৪ বারের ব্রাজিলিয়ান  সিরি ‘এ’ জয়ী দলটির ম্যানেজার রেনাতো গাউচো ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবল নিয়ে বলেছেন, ‘‘যখন আমরা হারি তখন বলাবলি হয়, ইউরোপের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার অবস্থায় নেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল। আবার যখন আমরা জিতি তখন সমালোচকরা বলে, ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো কেবল ছুটি কাটিয়ে ফিরেছে, তাই পারছে না! আরে ভাই মেনে নাও, এই জয়গুলো ব্রাজিলের ফুটবলের শক্তিরই প্রতিফলন।’’

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found