Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

পুরনো ব্যবস্থাপত্রে আর বাংলাদেশ চলবে না : জামায়াতের আমির

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
[publishpress_authors_box]

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পুরনো ব্যবস্থাপত্রে আর বাংলাদেশ চলবে না।  

বিডিনিউজ জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির জাতীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “পুরনো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না। এতগুলা মানুষ এমনি-এমনি জীবন দেয় নাই। জীবন দিয়েছে জাতির মুক্তির জন্য। যদি বস্তাপঁচা, পুরনো সব কিছুই টিকে থাকবে, তাহলে কেন তারা জীবন দিয়েছিল?

তিনি বলেন, “আপনারা পারবেন না, যেহেতু পারবেন না কাজেই নতুন ব্যবস্থায়, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। শিশু, কিশোর, যুবক, মা-বোন, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা, ব্যবসায়ীকে সবাইকে যে দেশ, যে সংবিধান, যে রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারবে, সেই নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।”

সমাবেশের সভাপতি ছিলেন জাতায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সবার শেষে বিকাল ৫টার দিকে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। পরে আবারও উঠে বক্তব্য দিতে গিয়ে পড়ে যান। পরে মঞ্চে বসেই তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

প্রথম আলো জানিয়েছে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর পদ্ধতি) নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। সারা দেশ থেকে দলটির নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। দুপুর ২টায় আয়োজনের মূল পর্ব শুরু হয়। আমিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের আগেই জনসমুদ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সমাবেশে ছিল বিপুল উপস্থিতি। এতে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহতদেরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বিকাল ৫টার পর সমাপনী বক্তব্য দিতে ওঠেন দলের আমির শফিকুর রহমান। ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। জামায়াত যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়বে, তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে…।” এ কথা শেষ করার আগে তিনি পড়ে যান।

নেতাদের সহযোগিতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সবাই নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি, আবার আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। আমি বলেছিলাম, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরা সবাইকে নিয়ে গড়ব। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহর মেহেরবানি ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জামায়াত যদি সরকার গঠন করে, তাহলে…।” এ কথা শেষ করার আগেই আবারও অসুস্থ হয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিচে বসে পড়েন।

শনিবার হাসপাতালে অসুস্থ জামায়াতের আমিরকে দেখতে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : বাসস

এ সময় মাইকে বলা হয়, আমিরে জামায়াত একটুখানি অসুস্থ হয়েছেন গরমের কারণে। কিন্তু তিনি বারবারই চেষ্টা করছিলেন বক্তব্য দেওয়ার জন্য। ডাক্তাররা বলছেন, তার আর বক্তব্য রাখা ঠিক হবে না।

এরই মধ্যে জামায়াতের আমির নিচে বসেই মাইকে আবার বক্তৃতা শুরু করেন। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করব, ইনশা আল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বলছিলাম, জামায়াত যদি আল্লাহর ইচ্ছা এবং জনগণের ভালোবাসায় দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না, সেবক হবে, ইনশা আল্লাহ। আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি, লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত থেকে যারা আগামী দিনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন…।”

জামায়াত আমির বলতে থাকেন, “যদি আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় জামায়াত থেকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন, তাহলে কোনও এমপি-মন্ত্রী আগামী দিনে সরকারি কোনও প্লট গ্রহণ করবেন না। কোনও এমপি ও কোনও মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনও গাড়ি চড়বেন না।

“কোনও এমপি ও কোনও মন্ত্রী নিজের হাতে কোনও টাকা চালাচালি করবেন না। কোনও এমপি ও কোনও মন্ত্রী যদি তার নির্দিষ্ট কোনও কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা তার প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য থাকবেন।”

‘চাঁদা নিতে দেব না, দুর্নীতি সহ্য করব না’

শফিকুর রহমান বলেন, “চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি সহ্য করব না। এই বাংলাদেশটাই আমরা দেখতে চাই। যুবকদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি।”

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির বলেন, “আল্লাহর ইচ্ছা, শরীর আমাকে সাময়িকভাবে সহযোগিতা করেনি। এটাও আল্লাহর ইচ্ছা যে এখন আল্লাহ আমাকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। আমার মউত আল্লাহ-নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ড আগে হবে না এবং হায়াত যা দিয়েছেন, তার এক সেকেন্ড আগেও আমি যাব না।”

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়ান। তখন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রচণ্ড গরমে অনেকে যেমন অসুস্থ হয়েছেন, আমাদের আমিরে জামায়াতও সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে কথা বলা ও সমাপ্ত ঘোষণার তৌফিক দিয়েছেন।” এ সময় জামায়াত আমিরকে দুই পাশ থেকে ধরে ছিলেন দুজন নেতা।

হাসপাতালে জামায়াতের আমির, দেখতে গেলেন মির্জা ফখরুল

বাসস জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার রাত সোয়া ৮টায় ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত