Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ঐকমত্য কমিশনের সভায় জামায়াতের ফেরার দিনে বয়কট সিপিবিসহ কয়েক দলের

বৈঠক বয়কটের পর সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
বৈঠক বয়কটের পর সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
[publishpress_authors_box]

হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক।

আগের দিনের বৈঠকে অনুপস্থিত জামায়োতে ইসলামী বুধবারের বৈঠকে ফিরলেও বয়কট করে বেরিয়ে যান সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম, এলডিপির একাংশের নেতারা।

বয়কটকারী দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে গিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সবাইকে কথা বলার সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এদিকে একদিন পর বৈঠকে ফেরা জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে নিরপেক্ষ থাকার আশ্বাস দেওয়ায় তারা বৈঠকে ফেরেন।

গত বছর অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিনের প্রতিবেদন জমা পড়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

এরপর ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশনের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সংলাপ সম্পন্ন করে ঐকমত্য কমিশন।

কোরবানির ঈদের আগে প্রথম ধাপের আলোচনা শেষে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার জন্য ২ জুন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসেছিল ঐকমত্য কমিশন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এরপর কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আলী রীয়াজের নেতৃত্বে মঙ্গলবার কমিশনের বৈঠকে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা গেলেও যায়নি জামায়াতের নেতারা।

গত ৩ জুন লন্ডনে ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক এবং তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এই বৈঠক বয়কট করে জামায়াত। তারা দাবি করে, এর মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠক জামায়াতের বর্জনের পর বুধবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকে উপস্থিত হন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ তিন নেতা। অন্যরা হলেন রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।

বৈঠকে আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাতেহরসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
বৈঠকে আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাতেহরসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।

মিলনায়তনের দরজার সামনেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতা আবদুল্লাহ তাহেরকে শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকস্থলে ঢুকে জামায়াত নেতারা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে করমর্দন করেন, কুশল বিনিময় করেন। কারও কারও সঙ্গে কোলাকুলিও করেন।

তাহের তাদের আগের দিনের বৈঠকে না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা বিস্ময়ের সাথে দেখলাম, তিনি (ড. ইউনূস) একটি দলের সাথে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে আছে কি না, আমাদের জানা নাই।

“আমরা মনে করি এটা নজিরবিহীন ছিল, শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সকল দলই বিব্রত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আপত্তি, বিএনপির ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।”

এই কারণে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলেই তার ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসাবে আগের দিনের বৈঠক বর্জনের কথা বলেন তিনি।

এরপর বুধবারের বৈঠকে ফেরার বিষয়ে তাহের বলেন, “এর মধ্যে আমাদের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকের কথা হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) দুপুরে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদের মাননীয় আমিরের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

“আমরা আমাদের কথা বলেছি, উনি উপলব্ধি করেছেন। উনি আশ্বস্ত করেছে, উনার সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। ওনার সাথে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আবার আজকে আসার সিদ্ধান্ত নিই।”

এদিনের বৈঠকে বিএনপির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের নেতা বৈঠকে যোগ দেন।

ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, আইয়ুর মিয়া, ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।

বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন। এরপর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমও বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন।

মিজানুর বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে কীসের সংলাপ হচ্ছে, কার সঙ্গে সংলাপ করব। তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। অন্তর্বর্তী সরকার যতদিন নিরপেক্ষ থাকবে না, ততদিনের জন্য আমরা বয়কট করেছি।”

সংলাপে ‘বৈষম্য হচ্ছে’ অভিযোগ করে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স বলেন, জামায়াত ইসলামীর তিনজনকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আরও অনেকে বক্তব্য রাখছেন, অথচ তাদের কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হচ্ছে না।

“এখানে বৈষম্য হয়েছে। এখানে শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, মিজানুর রহমানসহ আমরা প্রতিবাদ করেছি।”

পরে সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিটি দলের একজন করে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও দুই-একটি দলের একাধিক নেতা ছিলেন। তাদের কথাও বলতে দেওয়া হয়। আবার আলোচ্য সূচির বাইরেও আলোচনা হয়।

আলোচনায় যে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের কথা উঠেছে, তা নিয়েও আপত্তি জানান গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেরনে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আলোচনা পর্বে বিভিন্নজনকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে বাসদ সম্পাদক ফিরোজকে থামিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বাসদ সম্পাদক ফিরোজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সভা পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষপাত দেখা গেছে। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোনও কোনও বিশেষ দলের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found