Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

৫ ব্যাংকের শেয়ারের শূন্য দাম নিয়ে গভর্নরের ঘোষণা চূড়ান্ত নয় : অর্থ উপদেষ্টা

5 Bank Logo
[publishpress_authors_box]

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের শূন্য দাম নিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিষয়টি সরকার দেখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ৫ নভেম্বর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কাউকে কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

রবিবার অর্থ উপদেষ্টাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি যে এটা আমরা দেখব। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যেটা বলেছেন, সেটাই চূড়ান্ত কথা নয়।”

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এসব ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত ঘোষণা করে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।

দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বৃহস্পতিবার সকালে লেনদেন শুরুর আগেই তাদের ওয়েবসাইটে এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে এখন এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে না।

শেয়ার লেনদেন স্থগিত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

এমনিতেই টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা ও লেনদেন স্থগিত করায় তা নিয়েও উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে।

সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে; দুই বাজারেই মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমছে। কমছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর। ফের রাস্তায় নেমেছেন ছোট বিনিয়োগকারীরা। পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা ও লেনদেন স্থগিতের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ছোট বিনিয়োগারীরা।

মানববন্ধন থেকে আগামী ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টায় পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই পাঁচ ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আপাতত বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও কিছুই করার নেই; তবে সরকার চাইলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সংগতি রেখে আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল), বিশ্ব ব্যাংক, এফসিডিওর কারিগরি সহায়তা ও মতামতসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ তৈরি করা হয়েছে। এ রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতাধীন ব্যাংকসমূহের আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারসহ বিবিধ পাওনাদারের অধিকারের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ১৬ (২) (ট), ২৮ (৫), ৩৭ (২) (গ) এবং ৩৮ (২) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন টুলস প্রয়োগের সঙ্গে সংগতি রেখে রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের শেয়ারধারী, দায়ী ব্যক্তি, অ্যাডিশনাল টিয়ার ১ মূলধন ধারক এবং টিয়ার ২ মূলধন ধারক ব্যতীত সাব–অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডারের ওপর লোকসান আরোপ করতে পারবে।

“এ ছাড়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ৪০-এ অবসায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেজল্যুশনের অধীন থাকা ব্যাংককে বিলুপ্ত করা হলে শেয়ারধারীরা যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হতেন, তার চেয়ে অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাদের ক্ষতির পরিমাণের পার্থক্যের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

“ওই ধারা অনুযায়ী, রেজল্যুশনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত কোনও স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী কর্তৃক সম্পাদিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেয়ারধারীরা কোনও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হলে তা দেওয়া যাবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত একিউআর এবং বিশেষ পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব ব্যাংক বিশাল লোকসানে রয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় ‘৫টি সঙ্কটাপন্ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের লোকসানের দায়ভার বহন করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

“এমন প্রেক্ষাপটে পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনার কোনও সুযোগ আপাতত নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।”

দরপতনে সপ্তাহ শুরু পুঁজিবাজারে

পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতসহ নানা অস্থিরতায় পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। গত সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনে পাঁচ দিনই পড়েছিল সূচক।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবারও পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবস পতন দেখল পুঁজিবাজার।

রবিবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন ৪০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৮.০১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে। এর আগে চলতি বছরের ৩ জুলাই ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬.৬০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১১.৮১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৪১০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩৪টি কোম্পানির, কমেছে ৩২৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২৭টির।

এদিন, ডিএসইতে মোট ৪০২ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪১৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৫.৯৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ৪.৪৪ পয়েন্ট কমে ৮৭০ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ১১.৩৮ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৪০১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ১৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৪২টি কোম্পানির, কমেছে ১০৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪টির।

সিএসইতে ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত