Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ডাকসু নির্বাচন ৯ সেপ্টেম্বরই

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
[publishpress_authors_box]

চেম্বার বিচারপতির আদেশ বহাল রাখল আপিল বিভাগও, ফলে ডাকসু নির্বাচনের ফাঁড়া কেটে গেল। আর ৯ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তত থাকার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে রেখেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়।

প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলার মধ্যে ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা বৈধতার প্রশ্নে অন্য এক প্রার্থীর রিট আবেদনে সোমবার হাই কোর্ট এই নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দেয়।

তবে বিবাদী পক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেইদিনই আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে গেলে হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ আসে। চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য রিট মামলাটি পাঠান আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নেয়।

এরপর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত যে আদেশ দিয়েছে, তা বহাল রাখার আদেশ দেয়।

ফলে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে। হাই কোর্ট ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

আপিল বিভাগের আদেশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, এখন ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা থাকল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এরই মধ্যে বলেছেন, সব বাধা কাটিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে তারা বদ্ধপরিকর।

আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শিশির মনিরের সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আহসানুল করিম ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। শিবিরের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের পক্ষে ছিলেন ইমরান এ সিদ্দিক।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং নির্দলীয় শিক্ষার্থীরা জোট বেঁেধ মোট ১০টির মতো প্যানেল দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে ডাকসুতে জিএস প্রার্থী করা হয় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফরহাদকে।

ফরহাদ এক সময় ছাত্রলীগের পদে ছিলেন দাবি করে সেই পদ ছাড়ার কোনও ঘোষণা না পাওয়ায় তার প্রার্থিতার বৈধতা চ্যােলেঞ্জ করে গত ২৮ আগস্ট হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ডাকসু নির্বাচনে বামদের একটি জোট ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।

রিট আবেদনের পেছনে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ফরহাদের অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। ফরহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার পদত্যাগের কোনও প্রমাণ আমরা পাইনি।”

তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

গত সোমবার ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি েশখ তাহসিন আলীর হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়।

রুল ডাকসুর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় জিএস পদে এ ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা দেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

হাই কোর্ট ফরহাদের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য তথা সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে রিট আবেদনকারীকে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found