Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ইউরোপের বাজারেও পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা

কারখানায় কর্মরত 
এক পোশাক শ্রমিক। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
কারখানায় কর্মরত এক পোশাক শ্রমিক। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
[publishpress_authors_box]

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে একটার পর একটা ধাক্কা লেগেই আছে। ট্রাম্প শুল্ক আতঙ্কে দিশেহারা রপ্তানিকারকরা। ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর না হতেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হোঁচট খেয়েছে। এবার ইউরোপের বাজারেও পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা—ইউরোস্ট্যাট বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত মে মাসে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ১৬১ কোটি ১৩ লাখ (১.৬১ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

এই অঙ্ক আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। এপিলে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০৯ কোটি ৩৫ লাখ (২.০৯ বিলিয়ন) ডলার।

জানুয়ারিতে ১৯৭ কোটি ৮২ লাখ (১.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি নিয়ে ২০২৫ সাল শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ১৭১ কোটি ৫২ লাখ (১.৭১ বিলিয়ন) ডলার। মার্চে ছিল ২২৮ কোটি ২৮ লাখ (২.২৮ বিলিয়ন) ডলার।

সব মিলিয়ে বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৯৬৮ কোটি ৮ লাখ (৯.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তনি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

২০২৪ সালের জুলাই-মে সময়ে এই বাজারে ৮২৩ কোটি ১০ লাখ (৮.২৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।

চার মাসের হিসাবে অর্থাৎ জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮০৯ কোটি ৯৫ লাখ (৮.০৭ বিলিয়ন) ডলার। তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বেড়েছিল ২৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। দুই মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল ৩৬৯ কোটি ৩৩ লাখ (৩.৬৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৭ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-মে) কেবল মে মাসেই ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। গত বছরের মে মাসে এই বাজারে ১৭২ কোটি ২৬ লাখ (১.৭২ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মে মাসে গত বছরের মে মাসের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

মূলত মে মাসে রপ্তানিতে ধসের কারণে পাঁচ মাসের (জানুয়ারি-মে) হিসাবে প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। অভ্যন্তরীণ নানা সঙ্কটের মধ্যেও পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেও এখন তা নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না রপ্তানিকারকরা। তবে ইউরোপের বাজারে হঠাৎ রপ্তানি কমার সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বুঝতে পারছি না মে মাসে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কেন কমল। আমরা তো সবাই ব্যস্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ৩৫ শতাংশ ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে। এর মধ্যে ইউরোপেও যদি রপ্তানি কমে যায়, তাহলে আমাদের সামনে মহাবিপদ অপেক্ষা করছে।”

২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। পোশাক রপ্তানি থেকে মোট যে আয় হয়, তার প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এই বাজার থেকে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর শ্রমিক অসন্তোষে কারখানা বন্ধসহ নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেশ কমে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের নয় মাস (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ নেতিবাচক (ঋণাত্মক) প্রবৃদ্ধি ছিল।

অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইউরাপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা ২০২৩ সালের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কম আয় করেছিলেন। আর তাতে রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল।

তবে বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রপ্তানি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হয়েছিল বছর। ২০২৪ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে মোট ১ হাজার ৯৭৭ কোটি ১২ লাখ (১৯.৭৭ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

আগের বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৮৮৫ কোটি ৫৭ লাখ (১৮.৮৫ বিলিয়ন) ডলার।

২০২৫ সাল শুরু হয় বড় উল্লম্ফন নিয়ে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে দেখা যায়, এই বছরের প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পোশাক শিল্পমালিকরা ৩৬৯ কোটি ৩৩ লাখ (৩.৬৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেন। ওই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি।

তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রপ্তানির পরিমাণ ৫৯৭ কোটি ৬১ লাখ (প্রায় ৬ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি ছিল ২৯ শতাংশ।

চার মাসের (জানুয়ারি-এপ্রিল) হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ২৪ শতাংশ; রপ্তানির অঙ্ক ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৮ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। আর এর মধ্য দিয়ে ইইউতে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীনকে প্রায় ধরে ফেলেছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে চীন ইউরোপের বাজারে ৮৩৮ কোটি (৮.৩৮ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল।

কিন্তু পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ব্যবধান বেশ বেড়ে গেছে। এই পাঁচ মাসে চীন ইউরোপের বাজারে ১ হাজার ৯ কোটি ৬৯ লাখ (১০.০৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

ইইউতে রপ্তানি কার কত

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইইউর কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ হাজার ৯৭১ কোটি ২৪ লাখ (৩৯.৭১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

ইইউতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। চীন সবার শীর্ষে। তৃতীয় তুরস্ক; তবে তুরস্কের রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশে অর্ধেকেরও কম।

জানুয়ারি-মে সময়ে চীন ইউরোপের বাজারে ১ হাজার ৯ কোটি ৬৯ লাখ (১০.০৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।

২০২৪ সালের এই পাঁচ মাসে চীনের রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই বাজারে তুরস্কের রপ্তানি কমেছে; ৬ শতাংশ নেতিবাচক (ঋণাত্মক বা নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জানুয়ারি-মে সময়ে তুরস্ক ইউরোপে ৩৮৭ কোটি ৪৭ লাখ (৩.৮৭ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০২৪ সালের এই পাঁচ মাসে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। জানুয়ারি-মে সময়ে ভারত ইউরোপের বাজারে ২৫০ কোটি ৯৮ লাখ (২.৫১ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এই পাঁচ মাসে দেশটি ইউরোপে ১৯০ কোটি ১৭ লাখ (১.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মে সময়ে তাদের রপ্তানির অঙ্ক ছিল ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

অন্য দেশগুলোর মধ্যে জানুয়ারি-মে সময়ে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ; রপ্তানি হয়েছে ১৮২ কোটি ৬৬ লাখ (১.৮২ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক।

পাকিস্তানের রপ্তানির অঙ্ক ১৭৫ কোটি ৯ লাখ (১.৭৫ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ।

এছাড়া জানুয়ারি-মে সময়ে ইউরোপের বাজারে শ্রীলঙ্কার রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং মরক্কোর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

২০২৪ সালে ইউরোপের কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে ৯২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল, যা ছিল ২০২৩ সালের চেয়ে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

গত বছর চীন ইউরোপের বাজারে ২৬ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল; যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

তবে গত বছর এই বাজারে তুরস্কের রপ্তানি বেশ খানিকটা কমেছিল; ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার কমেছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

ভারতের বেড়েছিল প্রায় ২ শতাংশ। কম্বোডিয়ার বেড়েছিল ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের বেড়েছিল ৪ দশমিক ২১ শতাংশ; পাকিস্তানের বেড়েছিল ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ। মরক্কোর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের ৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব। পোশাকের বৈশ্বিক বাজারের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান দিয়েছে র‍্যাপিড।

বর্তমান অবস্থায়ও ইইউতে বাড়তি ১৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে র‍্যাপিড।

যুক্তরাষ্ট্রেও ধাক্কা, ১ আগস্টের পর কী হবে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্যই আতঙ্ক হয়ে এসেছে ট্রাম্প শুল্ক। বাংলাদেশকে এখনও এই পাল্টা শুল্কের পুরোটা দিতে হচ্ছে না। বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে ১০ শতাংশ দিতে হচ্ছে। তাতেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই বাজারেও পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা এসেছে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) গত ২০ জুলাই হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত মে মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

এই অঙ্ক আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২৮ শতাংশ কম। এপিলে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি নিয়ে ২০২৫ সাল শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭০ কোটি ১০ লাখ ডলার। মার্চে ছিল ৭২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৩ কোটি (৩.৫৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তনি করেছে বাংলাদেশ; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

অটেক্সার তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের পাঁচ মাসের (জুলাই-মে) মধ্যে শুধু মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। গত বছরের মে মাসে এই বাজারে ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মে মাসে গত বছরের মে মাসের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ট্রাম্প শুল্কের শুরুর এই ধাক্কা দেখেই বিচলিত রপ্তানিকারকরা। আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। সবাই আশা করেছিল, সরকার হয়ত দরকষাকষি করে শুল্ক অনেকটা কমিয়ে আনতে পারবে। কিন্তু কমেছে মাত্র ২ শতাংশ। আরও কমার কোনও আশা দেখা যাচ্ছে না।

একক দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার। ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এই বাজারে ৮৬৯ কোটি ২৪ লাখ (৮.৬৯ বিলিয়ন) পণ্য রপ্তানি হয়েছে; যা মোট রপ্তানি আয়ের ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “১০ শতাংশ ট্রাম্প শুল্কের ধাক্কা আমাদের ওপর পড়তে শুরু করেছে। ৩৫ শতাংশ কার্যকর হলে তছনছ হয়ে যাবে। অশনি সঙ্কেত নেমে আসবে আমাদের ওপর। আমরা কোনোভাবেই প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে পারব না।

“এর মধ্যে যদি ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি কমে যায়, তাহলে আমাদের কী হবে জানি না?”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found