কুমিল্লার মুরাদনগরের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফজর আলীর ভাই এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। র্যাব বলছে, শত্রুতার বশে বড় ভাইকে ফাঁসাতে সেই রাতে ‘মব’ সৃষ্টি করেছিলেন ছোট ভাই শাহ পরান।
এর আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালিয়ে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে পরানকে (২৮) গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১।
এরপর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে র্যাব এই ঘটনা নিয়ে তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করে।
মুরাদনগরে গত ২৬ জুন রাতে এক হিন্দু এক নারীকে তার বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ এবং তার ভিডিও ফেইসবুকে প্রকাশের পর সারাদেশে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলীকে (৩৮) পরদিনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে, যারা ভিডিও ধারণ করে সোশাল মিডিয়ায় দিয়েছিলেন।
২৫ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। বাবা-মাসহ বাড়ির অন্যরা পূজা দেখতে যাওয়ায় বাড়িতে ওই রাতে একা ছিলেন তিনি।
তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ফজর আলীকে সেই রাতে এলাকার লোকজন ধরে মারধর ও ভিডিও করেছিল। এক পর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন গ্রেপ্তার হন।
র্যাব পরাণকে গ্রেপ্তারের পর জানিয়েছে, ফজর আলী ও শাহ পরানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মাস দুয়েক আগে তাদের হাতাহাতিও হয়। এরপর সালিশে বড় ভাই ফজর আলী জনসম্মুখে শাহ পরানকে চড়-থাপ্পর মারে। এরপর থেকে পরান ভাইয়ের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল।
র্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নারীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। ফজর আলী সেই টাকা ফেরতের অজুহাতে ওই রাতে ওই নারীর বাড়িতে ঢুকেছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগান পরান।
“পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে অবস্থান করা শাহ পরান ও ফজর আলীর পূর্ব শত্রু একই গ্রামের আবুল কালামসহ অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করেই ভিকটিমকে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং পরবর্তীতে উক্ত ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।”
ঘটনার পরপরই শাহ পরান পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বড় ভাইকে ফাঁসানোর অভিযোগ স্বীকার করেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
ওই নারী ২৯ জুন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন।
এরপর ধর্ষণের মামলায় ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পর্নগ্রাফি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন সুমন, রমজান, আরিফ ও অনিক।



