Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

গোলায় মরার শঙ্কা কেটেছে, এখন অন্য ভয়ে ইরানিরা

তেহরানের সড়কে পাহরায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সদস্য।
তেহরানের সড়কে পাহরায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সদস্য।
[publishpress_authors_box]

বোমায় মরার আশঙ্কা দূর হয়েছে, কিন্তু নতুন ভয়ে এখন ইরানিরা। তা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই গুপ্তচর সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ইরান সরকার। যুদ্ধবিরতির পর সেই অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কঠোর ইসলামি শাসন থেকে মুক্ত হতে বিভিন্ন সময় ইরানিদের বিক্ষোভে নামতে হয়েছে; আর তা কঠোরভাবেই দমন করেছে দেশটির সরকার।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবিকরা হয়, এসব বিক্ষোভ পশ্চিমা ও ইসরায়েলি মদদপুষ্ট। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের স্থিতিশীলতাকে নস্যাৎ করা।

দমন-পীড়নের মুখে থাকা ইরানিদের যুদ্ধের মধ্যে পড়তে হয় গত ১৩ জুন ইসরায়েল বিমান হামলা শুরুর পর। জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ‍শুরু করলে বাধে সংঘাত। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও এক দফা হামলা চালায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে।

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতিতে গেছে উভয় পক্ষ; তার আগে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানে ৬ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছে ৫ হাজারের বেশি।

যুদ্ধের মধ্যে একের পর এক গোলায় বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ায় তেহরান ছাড়ার হিড়িক পড়েছিল, সেই অবস্থার অবসান ঘটেছে।

কিন্তু ইরানের মধ্য থেকে বিভিন্ন সূত্র এখন ভয় এবং দমন-পীড়নের পরিবেশ ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা বলছে, গোয়েন্দারা এখন গুপ্তচর সন্দেহে শুরু করবে ব্যাপক অভিযান, তাতে চলবে ধর-পাকড়।

কেরমানশাহ প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা এরই মধ্যে ‘জাতীয় নিরাপত্তায় ব্যাঘাত’ ঘটানোর জন্য ১১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তাদের মধ্যে একজন ইউরোপীয় নাগরিকও রয়েছেন।

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সম্প্রতি কমপক্ষে তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ইরান সরকার।

ইরানে নাগরিকদের সোশাল মিডিয়ায় কার্যকলাপও নজরদারির মধ্যে রাখে সরকার। সেখানে ভিন্নমত প্রকাশ করায় গ্রেপ্তারের নজিরও রয়েছে। একাধিক শহরে আরও কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটকের তথ্যও মিলেছে।

ইরানের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচার করে শাস্তি দেওয়ার জন্য তাদের ক্ষমতা আরও অবারিত হয়েছে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, যুদ্ধ চলার মধ্যেই তেহরান, আরাক ও খোররামাবাদ প্রদেশে গুপ্তচর সন্দেহে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

খোররামাবাদ প্রদেশে একজন চিকিৎসক এবং তার ছেলেকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়িতে প্রায় ৩০০টি ছোট ড্রোন পাওয়া গিয়েছিল বলে জানানো হয়।

ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরাক প্রদেশে বিপুল সংখ্যক ‘ইসরায়েলি এজেন্ট’ শনাক্ত করেছে।

১২ দিনের যে যুদ্ধ, তাতে আসলে সাধারণ মানুষকেই ভুগতে হয়েছে, বিবিসিকে বলেন এক ইরানি, তবে ভয়ে নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

তেহরানের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বলেন, “আমার মনে হয়, পুরো যুদ্ধটা সাজানো ছিল। ইসরায়েল ও আমেরিকা এসে সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে, ইরান কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এখন উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট।”

“গোটা যুদ্ধে যা ক্ষতি, তা সাধারণ মানুষেরই হয়েছে, আর সেই দুর্ভোগের এখনও বাকি আছে। আমরা মূল্য দিয়েছি আমাদের অর্থ দিয়ে এবং আমাদের জীবন দিয়ে এবং আমরা দিতেই থাকব,” বলেন তিনি।

যুদ্ধ শেষে ইরানিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কারণ নতুন নতুন িনষেধাজ্ঞা অর্থনীতিকে জটিলতায় ফেলে দিলে তাতেও ভুগতে হবে জনগণকেই।

ওই ইরানি বলেন, “আমরা ভীষণ ক্লান্ত। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা নিষেধাজ্ঞা চাই না, আমরা যুদ্ধবিরতিও চাই না। আমরা কেবল আমাদের নিজের দেশে শান্তিতে বাঁচতে চাই।”

তিনি আশঙ্কার সুরে বলেন, “আমার বেশ ভয় হচ্ছে অপমানিত শাসকদের। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পারেনি, এখন ইরানি জনগণ তাদের হাতের নাগালে, তারা মৃত্যুদণ্ড এবং নির্যাতন বাড়িয়ে দেবে।”

২০২২ সালে প্রতিবাদী তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। তা দমনের পর গত বছর ইরানে কমপক্ষে ৯০১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে জাতিসংঘ হিসাব দেয়।

যুদ্ধের আরেকটি প্রভাব তুলে ধরে আরেক ইরানি বলেন, “সরকার এখন তার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেবে। তাতে জনগণের পেছনে অর্থ ব্যয় কমবে।”

আবার এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও সংশয়ী অনেক ইরানি।

একজন বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি অবশ্যই ভেঙে পড়বে। ইসরায়েল তার সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।”

আর তার ধারাবাহিকতায় ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনেও আশাও দেখছেন কেউ কেউ।

“এর শেষ যুদ্ধবিরতি দিয়ে হবে না। এর শেষ হবে এই শাসন ব্যবস্থার পতনের মধ্যদিয়ে,” বলেন একজন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, আনাদোলু, তাসনিম নিউজ

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found