Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পেছনে অন্য কিছু, সন্দেহ ইরানিদের মধ্যে

iran-victory-rally-tehran-240624
[publishpress_authors_box]

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরই তেহরানের রাজপথে নামে ইরানিরা। হাতে জাতীয় পতাকা, কণ্ঠে বিজয়োল্লাস। তবে আকস্মিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহও দানা বাঁধছে কারও কারও মনে।

তাদের সন্দেহ, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি কৌশল হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিকে বাংকার থেকে বের করে আনা।

গত ১৩ জুন ইরানে বিমান হামলা চালানোর মধ্যদিয়ে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সূচনা ঘটায়। এরপর ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইসরায়েলে।

দুই দেশের এই সংঘাতে জড়াবে না বললেও এক সপ্তাহ বাদে শনিবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

তার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটিতে হামলার পরপরই ওয়াশিংটন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তেহরান ও তেল আবিব যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এরপর ইরান ইসরায়েলে এক দফা হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত দেয়। অন্যদিকে ইসরায়েল সেই হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেও নতুন করে হামলা চালায়নি।

এরমধ্যেই মঙ্গলবার ইরানিরা জয়োল্লাসে নামে বলে বিবিসির সাংবাদিক তেহরান থেকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলার কারণে থমকে যাওয়া তেহরান হঠাৎ জেগে ওঠে মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহরের লাউড স্পিকারের শব্দে। সরকার সমর্থক একদল ইরানি রাজপথে নামে উল্লাসে।

ইরানিরা মনে করছে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পিছু হটেনি, ফলে এই যুদ্ধে তাদেরই বিজয় হয়েছে।

তার মধ্যেও একদল আবার সংশয় নিয়েই এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে দেখার কথা জানান।

তাদের একজন বিবিসিকে বলেন, তার মনে হচ্ছে, এটা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, খামেনিকে বাংকার থেকে অরক্ষিত স্থানে বের করে আনা।

“ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনও উদ্দেশ্য ছাড়া নিশ্চয়ই কিছু করবে না, এটাই আমার মনে হচ্ছে।”

১২ দিন আগে ইসরায়েল হামলা শুরুর পর অজ্ঞাত স্থানে চলে যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর বদলে যাওয়া ইরানকে তিনি শাসন করে আসছেন কয়েক দশক ধরে।

বাংকার থেকেই তিনি শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যে খামেনি কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, তা চিহ্নিত করে ফেলেছেন তারা।

অর্থাৎ চাইলেই খামেনিকে বোমা হামলা চালিয়ে মারতে পারেন বলে ইঙ্গিত করেন তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, তবে খামেনিকে মেরে ফেলার ইচ্ছা তাদের নেই।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার একদিন আগে ইরানে রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে হোয়াইট হাউজ জানায়, এমন কোনও উদ্দেশ্য ওয়াশিংটনের নেই।

আবার ইরান কাতারে বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এমন হামলা অনুমিতই ছিল, আর এতে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মোট ৬০৬ ইরানি নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ১০৭ জন মারা গেছেন শুধু সোমবারই। আহত হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৩২ জন। এর মধ্যে সোমবার আহত হন ১ হাজার ৩৪২ জন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি ও তাসনিম নিউজ

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found