Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা : ঢাকা উত্তরের ৬ স্থান উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ

road safety
[publishpress_authors_box]

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২০২৩ সালে ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। তাতে প্রাণ হারিয়েছে ১২৩ জন। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কর্পোরেশনের ৬টি জায়গা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের যৌথ উদ্যোগে ডিএনসিসির সভাকক্ষে ‘ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির তথ্য উন্মোচন’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য উঠে আসে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রেকর্ড বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ‘ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিবেদন’ থেকে পাওয়া তথ্য উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিআইজিআরএস ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী।

তিনি জানান, ২০২৩ সালে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। তাদের ৬১ শতাংশই পথচারী এবং ২৪ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী। আর এসব মৃত্যুর পেছনে দায়ী বেপরোয়া বাস ও ট্রাক।

প্রতিবেদনে ডিএনসিসির ছয়টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে, মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যেখানে সংঘটিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তরের বিমানবন্দর, খিলখেত, কল্যাণপুর, মিরপুর ১, আব্দুল্লাহপুর ও ধউর বেরিবাঁধ এলাকার একটি করে স্থান।

তানভীর ইবনে আলী সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী অর্থাৎ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কৌশল অবলম্বন করে, বিশেষ করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও যথাযথভাবে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় পথচারী-বান্ধব সড়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। বেশ কয়েকটি সড়কের ক্রসিং, ইন্টারসেকশন এবং ইউ-লুপ (ইউ-টার্ন) সংস্কারের জন্যও কাজ করছে ডিএনসিসি।

এছাড়া সড়ক নিরাপত্তার ওপর একটি জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সভায় বিআইজিআরএস ঢাকার সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করা প্রয়োজন। এজন্য জনগণকে নিরাপদে সড়ক পারাপার ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে যান চালানোর জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন জরুরি।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, মৃত্যু কেবল সংখ্যা নয়, বরং যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে তাদের জন্য এটা সারাজীবনের যন্ত্রণা। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর জোর দেন তিনি।

‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২’ অনুসারে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি কাজ করছে বলে জানান ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) সুফিয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, “সড়ক ব্যবহারকারী ও গাড়ি চালকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে সহজেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found