ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলছে আলোচনা। তুরস্কের ইস্তামবুল শহরে উভয়পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে এনিয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা হওয়ার কথা।
কিন্তু সেই আলোচনা থেকে কোনও ফলাফল আসবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বরং যুদ্ধবিরতির ধীরগতি দেখে অনেকেই বলছেন, এখন পর্যন্ত যা ঘটছে, তা রাশিয়ার (ক্রেমলিনের) পরিকল্পনারই প্রতিফলন। আর মনে হচ্ছে হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে খুব একটা কিছু করবে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তাম উমেরভকে রাশিয়ার এক নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইস্তামবুলে দেখা করতে পাঠিয়েছেন। এটি জেলেনস্কির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও, পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে। কারণ এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য একজন মানুষ—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেনের শান্তির জন্য তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, এমন একটি আবহ তৈরি করতে হবে কিয়েভকে। অন্যথায় ট্রাম্পের আশপাশে থাকা ‘ক্রেমলিনপন্থী’ কণ্ঠগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন অথবা ইউক্রেনকে দেওয়া সাহায্য সীমিত করতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে রাশিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী। এটি চলছে ধীরে ধীরে, আর পুরো সময়সূচি ঠিক করছে ক্রেমলিন।
গত সপ্তাহে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও পোল্যান্ড ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে একতরফা একটি ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়, যা সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পুতিন ও ট্রাম্পের প্রকৃত মনোভাবের অনেককিছুই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
প্রথমত, এটি স্পষ্ট হয়েছে যে রাশিয়া অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা কিংবা ইউরোপীয় চাপকে ভয় পাচ্ছে না। ট্রাম্পও রাশিয়াকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারছেন না। এখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে ফটোসেশনে যাওয়ার রাজনৈতিক ঝুঁকি অনেক বেশি। তিনি মনে করছেন, ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট করার চেয়ে এটি বড় ক্ষতি হতে পারে না।
পুতিনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান একটি হিসেব করে নেওয়া ঝুঁকি। আর এটি ইতোমধ্যেই তার পক্ষে কাজ করছে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন—“কিছুই ঘটবে না যতক্ষণ না আমি ও পুতিন দেখা করি”—এটি কূটনীতির সব প্রত্যাশা ছুড়ে ফেলেছে। এখন কেবল তখনই কিছু ঘটবে, যদি ট্রাম্প ও পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
ট্রাম্প ও পুতিনের একটি বৈঠক খুব শিগগিরই হতে পারে। এমনকি ইস্তামবুলে শুক্রবারের আলোচনার ফলেই হয়তো সপ্তাহান্তে নেতাদের একটি সম্মেলন হতে পারে।

কিন্তু পুতিন হয়তো উপভোগ করছেন এই ধীরগতির শান্তি আলোচনাকে। অনেকের মতে, তিনি ভান করে যাচ্ছেন যেন হোয়াইট হাউস পুরো প্রক্রিয়াকে ছেড়ে না দেয়। তার ভাবনা, তাড়াহুড়ার কী দরকার? এদিকে তার বাহিনী পূর্ব ফ্রন্টে জড়ো হচ্ছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে রাশিয়ার আরও বড় কোনও কৌশল রয়েছে।
পুতিনের ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান থেকে বোঝা যায়, তিনি কী ভাবছেন। প্রথমত, তিনি ফ্রান্সের হুমকি দেওয়া “ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা” মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তিনি ইস্তামবুল সম্মেলনও উপেক্ষা করেছেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি হয়তো আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন যে, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া খুব সীমিত হবে। তিনি এই অনুমানে সঠিকও ছিলেন।
পুতিন এমনকি তিন দিন ধরে বিশ্বকে অপেক্ষায় রেখে ট্রাম্পের চাপও উপেক্ষা করেছেন, এটা দেখার জন্য যে তিনি শেষ পর্যন্ত ইস্তামবুলে একটি রুশ প্রতিনিধি দল পাঠাবেন কি না। প্রতিনিধি দলের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি বিশ্বকে অনিশ্চয়তায় রেখেছেন।
পুতিন হয়তো ইস্তামবুল আলোচনার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য আলোচনা করছিলেন। অথবা একটি প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের বৈঠকের আগে কিছু শর্ত বা ছাড় চাচ্ছিলেন। আবার এমনও হতে পারে, তিনি কখনোই জেলেনস্কির প্রস্তাব গ্রহণ করতে চাননি।
জেলেনস্কির জন্য এখন একটি অস্বস্তিকর সময় চলছে। তাকে আলোচনার আশপাশেই থাকতে হবে। কারণ হঠাৎ করে আলোচনা কোন দিকে মোড় ঘুড়ে যায় তা তিনি অনুমান করতে পারছেন না। কিন্তু তিনি এমনভাবে থাকতেও চান না যেন মনে হয়, তিনি পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন।
শুক্রবার আলবেনিয়ায় আগে থেকেই নির্ধারিত একটি সম্মেলন রয়েছে, সেখানে জেলেনস্কি যাবেন। কিন্তু এরপর তাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে।
এখন ধীরে ধীরে বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্প হয়তো রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। ইউরোপ ও হোয়াইট হাউস যেসব নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছে, ট্রাম্প হয়তো সেগুলো চাপিয়ে দেবেন না।
ইস্তামবুলে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের “কৌশলগত” উপস্থিতি হয়তো ট্রাম্পকে যথেষ্ট যুক্তি দেবে এই আশায় থাকার জন্য যে, কিছু অগ্রগতি হতে পারে। ফলে তিনি মস্কোর ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে দেরি করতে পারেন।
আলোচনা হয়তো ধীরে ধীরে চলবে। রাশিয়া হয়তো বেশ কিছু কঠিন শর্ত উপস্থাপন করবে। ইউক্রেন হয়তো ক্রমাগত যুদ্ধবিরতির দাবি জানাবে, যেটি রাশিয়া বারবার প্রত্যাখ্যান করে যাবে।
শুক্রবার ট্রাম্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত হলেও, বড় কোনও অগ্রগতি হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনা চলবে, আলোচনা নিয়েই আবার আলোচনা হবে। আর এটাই ক্রেমলিনের চাওয়া।
এমন ধারণার পেছনেও কারণ আছে।
তুরস্কে ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা নিয়ে যেটুকু আশা ছিল, বৃহস্পতিবার তা বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তায় রূপ নেয়। ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দল দুটি ভিন্ন শহরে পৌঁছায়। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে এই নিয়ে সন্দেহে—আসলে তারা একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করবে কি না।
সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষই জানায়, আলোচনা সম্ভাবনা কিছু না কিছু রূপে এখনও টিকে আছে। তবে আলোচনা শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত হতে পারে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থান করা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনায় মস্কোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণ রাশিয়া ইস্তামবুলে মধ্যম পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, “বৈঠকের কোনও সময় নেই, কোনো আলোচ্যসূচি নেই, উচ্চপর্যায়ের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমি মনে করি, রাশিয়ার মনোভাব গুরুতর নয়।”

দিনভর ইস্তামবুলে ইউক্রেনের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, তিনি সেখানে একটি ছোট প্রতিনিধি দল পাঠাবেন। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ।
তিনি বলেন, শান্তির জন্য যেকোনো সম্ভাবনায় ইউক্রেন প্রস্তুত, এমনকি সফলতার খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকলেও। কারণ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ব্যক্তিগত বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আসলে এই পুরো প্রক্রিয়াকে ছায়ার মতো আচ্ছন্ন করে রাখেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, “পুতিন ও আমি একসঙ্গে না হওয়া পর্যন্ত কিছুই ঘটবে না।”
বৃহস্পতিবার তিনি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছিলেন। তিনি বলেন, “যদি কিছু ঘটে” তাহলে তিনি শুক্রবার তুরস্কে যেতে পারেন। তবে এমন কোনও ইঙ্গিত ছিল না যে, শেষ মুহূর্তে কোনও শীর্ষ সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে পুতিন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটি হতে পারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার অভিযানের শুরুতে এ ধরনের আলোচনা একবার হয়েছিল। জেলেনস্কি তখন আরও এগিয়ে গিয়ে পুতিনকে সরাসরি আসার আহ্বান জানান।
কিন্তু পুতিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উল্টো তিনি ২০২২ সালের আলোচনার সময় যে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন, প্রায় হুবহু সেই রকম একটি দল পাঠিয়েছেন এবারও। সেই সময় আলোচনাটি প্রায় দুই মাস চলেছিল। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল ইস্তামবুলে। তখন রাশিয়া এমন সব দাবি তোলে, যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করত। তারা চেয়েছিল ইউক্রেন কখনোই ন্যাটোতে যোগ না দেয় ও সেনাবাহিনী সীমিত রাখে।
রাশিয়ার সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি ২০২২ সালে যে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এবারও তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া এই আলোচনাকে ২০২২ সালের শান্তি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছে।
তিনি বলেন, “এই প্রতিনিধি দল একটি গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে এসেছে। তাদের লক্ষ্য হলো সম্ভব কোনও সমাধান ও মিলের জায়গা খুঁজে বের করা।”
তবে কোনও পক্ষই জানায়নি কবে ঠিক এই বৈঠক হবে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট করে দেন যে, ইউক্রেনের প্রত্যাশা খুবই কম। তিনি বলেন, “রাশিয়া এই যুদ্ধ শেষ করতে চায় না।”
জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক এর অংশীদার থাকবে। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হলেও দেশটি যুদ্ধ নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। তারা ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।
একজন তুর্কি কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার ইস্তামবুলে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত কিথ কেলোগ। এছাড়া শুক্রবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে স্টিভ উইটকফের। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার জন্য বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বৈঠকের জন্য তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির জন্য “অধৈর্য” হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব ধরনের প্রক্রিয়ার জন্য উন্মুক্ত।
জেলেনস্কি চাইছেন অবিলম্বে ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি, এরপর শান্তিচুক্তির আলোচনা। কিন্তু পুতিন মনে করছেন, রাশিয়া এখন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে। তাই বড় ধরনের ছাড় পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ থামাতে চান না।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান মেদিনস্কি বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দেন, তারা যুদ্ধবিরতির আগে বড় ধরনের ছাড় চাইবেন। তিনি ইস্তামবুলে রাশিয়ার কনস্যুলেটে বলেন, “যেকোনও শান্তি চুক্তি হতে হবে সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান করে।”
ক্রেমলিনের ভাষায়, এই ‘মূল কারণগুলো’ বলতে বোঝানো হয় ইউক্রেনের স্বাধীন দেশ হিসেবে অস্তিত্ব ও পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
মেদিনস্কি বলেন, “ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্দেশ্য হলো—এখন না হলেও পরে—এই সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধান করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করা।”
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, এই আলোচনা হওয়ার কথা ইস্তামবুলের বসফরাস তীরবর্তী এক প্রাসাদে। সেখানে ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনার একটি পর্ব হয়েছিল। তাই বৃহস্পতিবার সকালেই ডলমাবাহচে প্রাসাদের এক পাশের গেটে বহু সাংবাদিক ভিড় করেছিলেন। এতে পার্শ্ববর্তী ফেরি যাত্রীদের অন্য পথে ঘুরে যেতে হয়। তবে সারাদিন ধরে কোনও আলোচক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
তথ্যসূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন



