Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

পুতিন-কিমকে পাশে রেখে ট্রাম্পকে কী বার্তা দিচ্ছেন শি

putin-xi-kim-un-beijing-parade-030925
[publishpress_authors_box]

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে পাশে রেখে বেইজিংয়ে নিজেদের সমরাস্ত্র ভাণ্ডার মেলে ধরলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যে বুধবারের এই কুচকাওয়াজের পুতিন, উনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

বিবিসির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলছেন, শি জিনপিং আসলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন তার প্রভাব।

এটা যে ট্রাম্পের আঁতে ঘা লাগিয়েছে, তা সোশাল মিডিয়ায় তার তার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিন ও কিম মিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

এসপিও সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতাদের জড়ো করার পর বুধবার ২৬ রাষ্ট্রনেতাকে বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে নিয়ে আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে চীনের বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে বেইজিং নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করেছে। তার মধ্যে রয়েছে একটি নতুন পারমাণবিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসোনিক অস্ত্র বহনের জন্য একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, একটি নতুন লেজার অস্ত্র এবং এমনকি রোবটিক কুকুর ড্রোনও।

এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যত শি বিশ্বমঞ্চে বেইজিংয়ের ক্ষমতা তুলে ধরতে চাইছেন। তা শুধু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শক্তি হিসেবেও।

জমকালো এই আয়োজনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বিবিসির চীন সংবাদদাতা লরা বিকার বলছেন, এই সামরিক কুচকাওয়াজের আসল চিত্রটি দেখা গেল প্রথম কামান দাগার আগেই।

তা ছিল প্রেসিডেন্ট শির উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনকে দীর্ঘক্ষণ ধরে করমর্দন করে স্বাগত জানানো, তারপর রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং এরপর তিনজনের একসঙ্গে কুচকাওয়াজ দেখতে যাওয়া।

এই তিন নেতাকে প্রকাশ্যে একসঙ্গে এই প্রথম দেখা গেল। এবং কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত অস্ত্র ও সৈন্যদের চেয়েও এটাই ট্রাম্পের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করেছে বলে মনে করেন লরা বিকার।

কুচকাওয়াজের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল নিখুঁত বিন্যাস, ক্ষমতা এবং দেশপ্রেমের একটি সুপরিকল্পিত দৃশ্য। এমনকি কোরাস দলও নিখুঁত সারিতে দাঁড়িয়ে ‘কমিউনিস্ট পার্টি না থাকলে আধুনিক চীন হয় না’ গানটি গেয়েছে। সৈন্যরা একইসাথে পা ফেলে মার্চ করে গেছে এবং তাদের প্রতিটি পা ফেলার শব্দ তিয়ানানমেন স্কোয়ারের ৫০ হাজার অতিথির মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

সমরাস্ত্র প্রদর্শনের দিকটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “প্রদর্শনীটি কেবল চীন কোথায় ছিল, বা কতদূর এগিয়েছে, তা দেখায়নি। এটি দেখিয়েছে চীন কোন পথে যাচ্ছে। শি বিশ্বের একজন নেতা হিসেবে এমন ভূমিকা পালন করছেন যে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুই নেতার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

“আর তার নিয়ন্ত্রণে এমন একটি সামরিক বাহিনী তৈরি হচ্ছে, যা পশ্চিমকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।”

বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক জেমস ল্যাডাল বলছেন, প্রেসিডেন্ট শি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রে স্থাপন করতে চেয়েছেন। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে।

“কিন্তু দুটি বিষয় পশ্চিমা কূটনৈতিক অঙ্গনে কাঁপন ধরিয়ে দেবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমেরিকার সরে আসার ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, চীন তা কতটা দ্রুত পূরণ করছে। এছাড়া কঠোর মার্কিন শুল্ক কীভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম স্বৈরাচারী দেশ চীনের উষ্ণ আলিঙ্গনে এত দ্রুত ঠেলে দিয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ থাকবে।”

তবে বেইজিংয়ের এই কুচকাওয়াজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপস্থিতি পশ্চিমের জন্য কিছুটা স্বস্তিকর বলে মন্তব্য করেন ল্যাডাল।

এই কুচকাওয়াজ এবং তাতে পুতিন ও কিমের উপস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করে বিবিসির রাশিয়া বিষয়ক সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ।

তিনি বলেন, “এ সপ্তাহে চীনে সমস্ত কূটনীতি ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।”

একে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার একটি বিকল্প হাজিরের প্রক্রিয়া হিসাবে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “একারণেই রবিবার এবং সোমবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে আমরা চীন, রাশিয়া ও ভারতের নেতাদের একসঙ্গে হাসতে দেখেছি।

“এ কারণেই ভ্লাদিমির পুতিন শি জিনপিংকে একজন সত্যিকারের বন্ধু বলেছেন এবং চীনের নেতা রুশ প্রেসিডেন্টকে পুরানো বন্ধু বলেছেন। এবং একারণেই শি জিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন বুধবার সামরিক কুচকাওয়াজে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন।”

“সংক্ষেপে, ভূ-রাজনৈতিক মহাবিশ্বে আমেরিকান আধিপত্যের পাল্টা শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষমতা একত্রিত হচ্ছে,” বলেন রোজেনবার্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি একটি ব্যাপক সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে, যার ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড়িয়েও যাচ্ছে। চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্রেও প্রচুর বিনিয়োগ করছে।

বেইজিংয়ে শক্তি সমাবেশ দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করেছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আপনারা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তখন ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।”

তথ্যসূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found