Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবি কোন উদ্দেশ্যে, প্রশ্ন উমামার

উমামা ফাতেমা। ফাইল ছবি
উমামা ফাতেমা। ফাইল ছবি
[publishpress_authors_box]

নারী সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন বাতিলের যে দাবি উঠেছে ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা উমামা ফাতেমা।

নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ এবং তাতে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এক ফেইসবুক পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান উমামা।

বাম সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের এক সময়ের নেতা উমামা ফাতেমা এখন জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত এখন নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে গত বছর আওয়াম লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারে বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করে। এরমধ্যে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন একটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী শিরীন হক।

এই কমিশন সম্প্রতি তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেন। তাতে সম্পত্তিতে নারীদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা, যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে।

তাদের সুপারিশসহ এই কমিশন বাতিলের দাবি জানিয়ে শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম।

সেই সমাবেশে বক্তৃতায় হাসনাত বলেন, হেফাজতে ইসলাম নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে যেসব ‘কনসার্ন’ উত্থাপন করেছে, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অতিসত্বর অ্যাড্রেস’ করা দরকার।

একই দিন উমামা ফেইসবুকে লেখেন, “জুলাই এর পর মেয়েদের সাইডে বসায় দিয়ে এখন রাজনৈতিক পাড়ায় নারী অধিকার নিয়ে সালিশ বসছে দেখছি। হায়রে নাটক!”

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল হলে অন্য কমিশনগুলোও বাতিলযোগ্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সবগুলো সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ঘেঁটে দেখলেই অনেক অবাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনা চোখে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রয়োরিটি বেসিসে সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে/বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবে। এর মধ্যে নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে সর্বস্তরের নারীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

“প্রস্তাবনা ঠিক মনে না হলে মত-দ্বিমতের সুযোগ রয়েছে। সেটা না করে পুরো কমিশন বাতিলের কথা তোলা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে?! আর নারীদের কতটুকু অধিকার থাকবে সেটা নিয়ে তো নারীদের তুলনায় পুরুষদের মাথাব্যথা বেশি। এই কমিশনের রিপোর্ট বাতিল হলে বাকি সব সংস্কার কমিশনের রিপোর্টও বাতিলযোগ্য।”

জুলাই অভ্যুত্থানে ব্যাপক নারীর অংশগ্রহণের দিকটি দেখিয়ে উমামা লিখেছেন, “নারীরা কোনও ব্যবহারের বস্তু না যে আপনার গদি সিকিউর করে রান্নাঘরে ফিরে যাবে। অভ্যুত্থানের পর দেশের ৫০% জনগণের অধিকারের প্রশ্ন যাদের কাছে উটকো ঝামেলা লাগে তারা আসলে কোন ধরনের রাজনীতি করতে চায়, তারাই জানে।

“নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু জনসম্মুখে সভা-সমাবেশ করে যে সকল বক্তৃতা ঝাড়া হচ্ছে তাতে আপনাদের বিরোধের পরিবর্তে নারীবিদ্বেষটাই বেশি প্রকাশ পায়।”

“স্পষ্ট করেই বলতে চাই, নারীদের অধিকার, সুযোগ সুবিধার প্রশ্ন বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনও রাজনীতি মেইনস্ট্রিম হবে না। জুলাই অভ্যুত্থানে তা পরিষ্কারভাবেই বোঝা গেছে। স্টেজে গলাবাজি করে, চোখ রাঙানি দিয়ে নারীদের প্রান্তিক করা সম্ভব না,” হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব পদে থেকে গত বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রাণ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী উমামা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কও ছিলেন তিনি।

অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাস পর ‘নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে’ ছাত্র ফেডারেশন ছাড়েন উমামা।

অভ্যুত্থানকারী ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এসএনপি গঠনের পর অবশ্য তাতে কোনও পদ নেননি উমামা; যদিও সমন্বয়কদের অনেকেই এই দলে রয়েছেন।

সম্প্রতি এক ফেইসবুক পোস্টে উমামা বলেন, এনসিপির সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

“আমার অনেক পরিচিত মানুষ এই দলটির সঙ্গে থাকলেও, ব্যক্তিগতভাবে আমার এর সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই,” বলেছিলেন তিনি।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত