Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিতের সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে : পাকিস্তান

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিআইডি
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিআইডি
[publishpress_authors_box]

১৫ বছর পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার যৌথ সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফওসি) বৈঠকে যোগ দিতে ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ ঢাকা আসেন। ১৫ বছরের মধ্যে এটি ছিল প্রথম পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ঢাকা-ইসলামাবাদ এফওসি বৈঠক।

পাকিস্তানি পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলাদা সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

১৭ এপ্রিল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব কথা বলে। এরপর শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান বলেছে, “ঢাকায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন।”

সেখানে আরও বলা হয়েছে, দেই দেশই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় করেছে, যা তাদের জনগণের অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক সখ্যতা এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি। বৈঠকে নিউইয়র্ক, কায়রো, সামোয়া এবং জেদ্দায় সম্প্রতি উচ্চস্তরের যোগাযোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করেছে।

উভয় পক্ষ নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপের মাধ্যমে গতি বজায় রাখা, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলি দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা এবং সংযোগে সহযোগিতা বৃদ্ধি ওপরও জোর দেয়।

বৈঠকে পাকিস্তানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করে, অন্যদিকে বাংলাদেশ মৎস্য ও সামুদ্রিক শিক্ষায় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পাকিস্তানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাব এবং শিক্ষাখাতে আরও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় বাংলাদেশ।

বৈঠকে যোগাযোগ বিষয়েও ভালো আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তারা বলেছে, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলকে স্বাগত জানিয়েছে উভয় পক্ষ এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ আবার চালু করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ এবং ভিসা সহজীকরণের ক্ষেত্রে অগ্রগতিতেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ঢাকায় প্রখ্যাত পাকিস্তানি শিল্পীদের সাম্প্রতিক পরিবেশনার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করেছে পাকিস্তান। ক্রীড়া, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে, যার মধ্যে এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুই পক্ষই সার্ককে এর প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে, উভয়েই ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। আলোচনায় আঞ্চলিক সংহতি, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং বহিরাগত চাপ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দূরে রাখার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করা হয়। সেখানে একটি ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি উঠে আসে।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের আসন্ন সফরের কথাও উঠে আসে বৈঠকে।

২০২৬ সালে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

দুই দেশের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে; তারপর সম্পর্ক শীতলতায় গড়ানোর পর আর আলোচনা হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্ক বিনির্মাণের প্রয়াসে আবার হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক।

বাসস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া এবং স্বাধীনতাপূর্ব অভিন্ন সম্পদের জন্য বকেয়া অর্থ প্রদানসহ অমীমাংসিত ঐতিহাসিক বিষয়গুলো সমাধান করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ‘সুদৃঢ় দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো উত্থাপন করেছি।”

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে “আটকেপড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, অবিভক্ত পাকিস্তানের সম্পদের সুষম বণ্টন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের শিকারদের জন্য প্রেরিত বৈদেশিক সাহায্য তহবিল স্থানান্তর এবং ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া।”

তিনি বলেন, “আমরা (ঢাকা) বলেছি যে, ঐতিহাসিক অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি করার এটাই সঠিক সময়।”

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ ও স্বার্থের জন্য ‘আমাদের সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি’ তৈরির জন্য এই সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন।

পাকিস্তানি পক্ষের প্রতি এই আহ্বানের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া ছিল জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন বলেন, “তারা ভবিষ্যতে অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পৃক্ত হতে চায়।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found