যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হতেই নিজের নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে চীন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক চীনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শিক্ষার্থীসহ নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে এই সতর্কতা দিল চীন।
গত ২ এপ্রিল আমদানি করা সব পণ্যের ওপর সর্বজনীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এছাড়া প্রায় ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত হারে পাল্টা শুল্ক বসান তিনি।
এই পাল্টা শুল্কের তালিকায় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকেও রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আরোপ করেন ৩৪ শতাংশ শুল্ক। প্রতিক্রিয়ায় চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে দুর্লভ খনিজ সম্পদের রপ্তানি কমানো এবং দেশটির নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং।
সোমবার এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, চীন যদি মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক তুলে না নেয়, তাহলে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বাড়ানো হবে।
সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই বুধবার চীনের পণ্যের ওপর এক লাফে ১০৪ শতাংশ শুল্ক বসান ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকান পণ্যের ওপর শুল্ক হার বাড়িয়ে ৮৪ শতাংশ করে চীন সরকার।
এর কয়েক ঘণ্টা পর চীন বিশ্ব বাজারের প্রতি ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করছে-এই অভিযোগ তুলে তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক ১০৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা আসে ট্রাম্পের কাছ থেকে।
এ পটভূমিতে নিজের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সতর্ক করল চীন।
দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় চীনা পর্যটকদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ঝুঁকি পরিপূর্ণভাবে মূল্যায়ন করতে ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে।”

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ সম্পর্কে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিকতার অজুহাতে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে।
“নিজ স্বার্থে অন্য দেশের ন্যায্য স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
“এটি একপাক্ষিকতা, সংরক্ষণবাদ এবং অর্থনৈতিক দমন ছাড়া আর কিছু নয়।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের অপব্যবহার কার্যত অন্য দেশগুলোকে বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।”
বুধবার চীনের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “চীন বিশ্ব বাজারের প্রতি যে অসম্মানজনক আচরণ করেছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক হার বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করছি, যা এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।”
তিনি বলেন, “আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে চীন বুঝতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলোর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ।”
ট্রুথ সোশালে দেওয়া একই পোস্টে চীন ছাড়া বাকি দেশগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।
তথ্যসূত্র : দ্য হিল



