দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট উন সুক ইয়েলকে পদচ্যুত করেছে। তিনি এখন আর প্রেসিডেন্ট নেই।
ডিসেম্বরে তিনি সাময়িকভাবে সামরিক শাসন জারি করলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা।
পার্লামেন্ট উনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিলে আদালতও তা বহাল রাখে। শুক্রবার আদালতের রায়ে উন আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত হন।
এই রায়ের ফলে তাকে প্রেসিডেন্ট ভবন ছাড়তে হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সঙ্কটে দক্ষিণ কোরিয়া একটি বড় অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়েও নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে।

আদালতের ৮ জন বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে উনের অভিশংসনকে সমর্থন করেন। তারা বলেন, উন ডিসেম্বরে সেনাবাহিনী দিয়ে পার্লামেন্ট দখল করেন এবং সংসদ সদস্যদের জোর করে বের করে দিতে বলেন। এটি ছিল একটি বিশৃঙ্খল ও অগণতান্ত্রিক কাজ।
আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুন হিয়ং-বে বলেন, প্রেসিডেন্ট উন সামরিক শাসন জারির নির্ধারিত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এটি জনগণের বিশ্বাসের প্রতি একটি গুরুতর বিশ্বাসভঙ্গ।
মুন আরও বলেন, উন সামরিক শাসন জারি করেছিলেন যখন দেশটি কোনো বড় সঙ্কটে ছিল না। তাই এটি ছিল অসাংবিধানিক। উনের সিদ্ধান্তকে কোনভাবেই ন্যায্য বলা যায় না।
একটি আলাদা ফৌজদারি মামলায় উন জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। পরে মার্চ মাসে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। তবে অভিযোগ এখনো বহাল রয়েছে।
শুক্রবারের রায়ের পর উন তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব দেওয়া ছিল তার জন্য একটি গর্বের বিষয়। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।”
রায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উনের বিরোধীরা আদালতের সামনে পতাকা নাড়িয়ে, সঙ্গীত বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাদের অনেকের আশঙ্কা ছিল—উন আবার ক্ষমতায় ফিরলে তিনি হয়ত আবারও সামরিক শাসন জারি করতে পারেন।

তবে প্রেসিডেন্ট উনের সরকারি বাসভবনের সামনে ছিল শান্ত ও বিষণ্ণ পরিবেশ। সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তার রক্ষণশীল সমর্থকরা।
উনেরর দলের প্রতিনিধি জানান, তারা আদালতের রায় মেনে নেবেন এবং জনগণের সেবা করবেন।
এই ইস্যু দেশজুড়ে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। উনের পক্ষে ও বিপক্ষে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
রায়ের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ ব্যারিকেড বসায়, চেকপোস্ট স্থাপন করে এবং সহিংসতা না ঘটানোর আহ্বান জানায়।
এক সময়ের প্রসিকিউটর থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া উনের জন্য এটি এক করুণ পরিণতি। তিনি একসময় আরেক প্রেসিডেন্টের অভিশংসন ও কারাবন্দির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু এবার তাকেই একই পরিণতি ভোগ করতে হলো।
তথ্যসূত্র : সিএনএন



