সৌদি আরবে যে শাস্তি দেওয়া হয়, বাংলাদেশেও ধর্ষণকারীদের জন্য সেই শাস্তি প্রয়োগের কথা বললেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা বেগম। তার মতে, সৌদি আরবের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া গেলে বাংলাদেশের পুরুষরা আর নারীদের ধর্ষণের সাহস পাবে না।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সৌদি আরবের শরিয়া আইনে ধর্ষণ একটি ফৌজদারী অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে দোররা মারা থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর দণ্ড কার্যকর করা হয় প্রকাশে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে।
বাংলাদেশেও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এখানে কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
শামীম আরা বেগম বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বাড়তে থাকলে, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নারীসমাজ পিছিয়ে পড়বে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখা আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “আমরা বারবার ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছি, আন্দোলন করছি। ফলশ্রুতিতে কিছুই হচ্ছে না। বেশির ভাগ দোষী আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমাদের মা-বোনেরা ঘরে বাইরে, রাস্তাঘাটে কোথাও নিরাপদে নেই।
“সৌদি আরবে যেভাবে ধর্ষণকারীকে শাস্তি দেওয়া হতো, আমাদের দেশেও যদি সেভাবে ধর্ষককে শাস্তির আওতায় আনা হতো, তাহলে আমাদের পুরুষশাসিত সমাজ নারীদের ধর্ষণ করতে সাহস পেত না। এভাবে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বাড়তে থাকলে আমাদের নারীসমাজ পিছিয়ে যাবে। এগিয়ে যেতে পারবে না।”
মানববন্ধন থেকে ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি নির্যাতনের তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।



