Beta
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
Beta
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

কেন পদক পেয়েছিলেন, কেন হারালেন

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করছেন শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানেই ৩৪৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদক দেওয়া হয়। ছবি : পিআইডি
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করছেন শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানেই ৩৪৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদক দেওয়া হয়। ছবি : পিআইডি
[publishpress_authors_box]

বীরত্ব, পেশাদারত্ব, সাহসিকতাপূর্ণ কাজ, সততা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রতিবছরই পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হয় নির্দিষ্ট পদক। এই নিয়মে ছয় বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদক নিয়েছিলেন পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ৩৪৯ জন কর্মকর্তা।

আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমনে সাহসিকতা, সেবা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এসব পদক দেওয়া হয়।

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আলোচনায় আসে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত এ তিনটি নির্বাচন ছিল বিতর্কিত।

এসব নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এমন ৩০ জনের বেশি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে অবসরেও পাঠিয়েছে সরকার।

এবার ‘বিতর্কিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে’ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৮ সালের পুলিশ পদক পাওয়া ১০৩ কর্মকর্তার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পদক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও সেটি ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিরোধীদের বর্জনের মধ্যে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসনে জয় পায়। বাকি আসনের বেশির ভাগও পায় সেই দলেরই নেতৃত্বাধীন মহাজোট। পরবর্তীতে ওই নির্বাচনকে ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ বলে দাবি করে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলো। 

ওই নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে যে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ পুলিশের বিশেষায়িত শাখা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) প্রেষণে আসা সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

২০১৮ সালের সেই নির্বাচনের পর বিরোধীদলসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, পুলিশের অসংখ্য কর্মকর্তা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করেছিল। তারই পুরস্কার হিসেবে তাদের কাউকে কাউকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হয়।

কোন পদক কেন দেওয়া হয়?

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হয় পুলিশ সদস্যদের অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। সাধারণত প্রতিবছর পুলিশের বার্ষিক প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী এই পদক পরিয়ে দেন। সাধারণত পদক পাওয়া ব্যক্তিরা নিজের নামের শেষে বিপিএম উপাধি লিখে থাকেন।

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) দেওয়া হয় কর্মক্ষেত্রে পেশাদারত্ব, সততা এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে পুলিশের কাজে গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তির স্বীকৃতি হিসেবেও এই পদককে বিবেচনা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হয় পুলিশ বাহিনীতে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে প্রতিবছর পিপিএম পদক দেওয়া হয়। যারা এই পদকে ভূষিত হন তারা নিজের নামের শেষে পিপিএম উপাধি যুক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হয় পুলিশ বাহিনীতে অনন্যসাধারণ পেশাদারত্বের জন্য। পেশাগত দক্ষতা, পুলিশের বিভিন্ন শাখায় উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় অবদান রাখেন যারা, তারা এই পদক লাভ করে থাকেন।

মূল্যমান কত?

বিপিএম ও বিপিএম-সেবা পদক পাওয়া ব্যক্তিরা মেডেল ছাড়াও এককালীন এক লাখ টাকা এবং আমৃত্যু প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে পান। আর পিপিএম ও পিপিএম পদক পাওয়া ব্যক্তিরা এককালীন ৭৫ হাজার টাকা এবং আমৃত্যু মাসে দেড় হাজার টাকা করে পেয়ে থাকেন।

২০১৮ সালে কতজন পদক পেয়েছিলেন?

২০১৮ সালের জন্য চার ক্যাটাগরিতে পুলিশের মোট ৩৪৯ জন সদস্যকে পদক দেওয়া হয়েছিল, যা বাহিনীর ইতিহাসে রেকর্ড।

এর মধ্যে ৪০ জনকে দেওয়া হয় বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ৬২ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম), ১০৪ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) এবং ১৪৩ জনকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)।

২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে পদক প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে পদক পরিয়ে দেন।

আগের বছর ২০১৭ সালে ওই চার ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছিলেন ১৮২ জন পুলিশ সদস্য। আর পরের বছর ২০১৯ সালের জন্য এসব ক্যাটাগরিতে পুলিশের ১১৮ জন সদস্য পদক পান।

যাকে যে কারণে পদক

২০১৮ সালে র‌্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) লাভ করেন সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে।

সেই বছর চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি। তিনিও পেয়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম সেবা)। ঢাকা রেঞ্জে পুলিশের কাজে গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য পদক পান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

২০১৮ নির্বাচনের সময় মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ছিলেন ডিএমপির কমিশনার। বিপিএম সেবা পদকে ভূষিত হন তিনি। মূলত রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার হিসেবে তাকে ওই পদক দেওয়া হয়েছিল।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স দায়িত্বরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) পান। তার অধীন থাকা পুলিশের বিভিন্ন শাখার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখায় ওই পদক লাভ করেন তিনি।

নানা কারণে তুমুল আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) পান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি হিসেবে ওই পদক দেওয়া হয় তাকে।

নির্বাচনের সময় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে ছিলেন কমান্ডার ‍মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান। ওই বছর বাংলাদেশ পুলিশ পদকে (বিপিএম-সেবা) ভূষিত হন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found