Beta
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

আওয়ামী লীগের নিবন্ধনও স্থগিত

নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি
নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি
[publishpress_authors_box]

কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার রাতে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেল গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির।

এর আগে এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আখতার আহমেদ বলেন, “আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ইলেকশন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হলো। সে অনুযায়ী আজকে আমরা গেজেট নোটিফিকেশনে জারি করেছি, আপনারা গেজেটের কপিটা বিজি প্রেস থেকে পেয়ে যাবেন।”

কী কারণে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা হলো যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে বলে বিজ্ঞপ্তি, প্রজ্ঞাপন, সেটার ধারাবাহিকতায় আমরা এখানে এটা করেছি।”

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।”

এর আগে রবিবার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে এমন ব্যক্তি বা সত্তার এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই আইন কিছুটা সংশোধেনের পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়। সেই বিচারে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের পর রায় কার্যকর করা হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জুলাই আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এই ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

এরমধ্যে অভ্যুত্থানের নেতারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলে আন্দোলনে নামার পর শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দলটির বিচারের পথ খুলতে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত আসে।

সংশোধিত আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এবং তাদের যে কোনও ধরনের সহযোগী সংগঠনের বিচারের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found