হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. মাহবুবুল হকের আদালত আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ দিয়েছে আদালত।
২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন আরেক টিকটকার হিসেবে পরিচিত ব্লু ফেইরি লায়লা; যাদের অতীতে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে।
হত্যাচেষ্টা মামলার ছয় মাস পর ২০২৪ সালের ৯ জুন মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন লায়লা। এ মামলার পরদিনই মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩১ জুলাই জামিন পান তিনি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামুন ও লায়লা দুইজনই মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হন।
আদালতে মামুনের আইনজীবী তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেইসবুকে পরিচয় হয় লায়লার। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে লায়লার বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়। তখন থেকে প্রিন্স মামুন লায়লার বারিধারা ডিওএইচএসের বাসায় বাস করতে থাকেন। প্রিন্স মামুন বিভিন্ন অজুহাতে লায়লার কাছ থেকে টাকা নিতেন। প্রায়ই মাদক সেবন করে গভীররাতে বাসায় আসতেন। অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেন। এমনকি মাঝে মধ্যে লায়লাকে মারপিট করতেন। বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি আদায়ের পাঁয়তারাও করতেন মামুন।
মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর উত্তরায় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরেন তারা। এ সময় মামুনসহ আরও দুজন মদপানের জন্য মিরপুরে যাওয়ার পরামর্শ করেন। লায়লা তাকে নিষেধ করেন; বাধা দেন। এতে মামুন উত্তেজিত হয়ে লায়লাকে গালি দেন। গালি দিতে নিষেধ করলে মামুন লায়লাকে মারধর করেন ও হত্যার চেষ্টা করেন।
ওই ঘটনায় পরদিন ১২ ডিসেম্বর মামলাটি করেন লায়লা। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। এরপর ৩ জুন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ছয় মাস পর ২০২৪ সালের ৯ জুন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় আরেকটি মামলা করেন লায়লা।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এ পাঠানো হয়েছে।
ধর্ষণ মামলার পরদিন ১০ জুন প্রিন্স মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ জুলাই আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।



