Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

পদ্মায় ‘ইলিশ লুট করতে গিয়ে’ নিখোঁজ দুই এএসআই

Kushtia police
[publishpress_authors_box]

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পদ্মা নদীতে সোমবার ভোররাতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা বলছেন, বেড় কালোয়া এলাকায় অবৈধভাবে ইলিশ মাছ শিকাররত জেলেদের কাছে ‘অনৈতিক সুবিধা’ চাওয়ায় এ হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। এসময় আহত হন আরেক পুলিশ এবং দুই ইউপি সদস্যও।

তবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মাছ লুটের খবর তাদের জানা নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে পদ্মা নদীর ওপারে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ সদস্যরা। ফেরার পথে জেলেদের নৌকার সঙ্গে পুলিশের নৌকার সংঘর্ষ হয়।

নিখোঁজ দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- কুমারখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সদরুল আলম ও মুকুল হোসেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

প্রধান মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা চললেও পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় ছয় পুলিশ নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে যান। তারা অভিযানের নামে জেলেদের মাছ লুটে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে অভিযোগ করেন, তার নৌকা থেকে ৫ কেজি ইলিশ নিয়ে নেয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তারা। আগের রাতেও তার নৌকা থেকে ৮ কেজি ইলিশ নিয়ে যান ওই পুলিশ সদস্যরা। পরপর দুই রাত এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন জেলেরা।

সোমবার ভোররাতে কয়েকটি নৌকা থেকে ১৫-২০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশের নৌকা ডুবে এএসআই সদরুল ও এএসআই মুকুল নিখোঁজ হন। আহত হন ইউপি সদস্য মো. সেলিম ও আনোয়ার হোসেন টিটন এবং এক পুলিশ সদস্য। তারা সাঁতরে তীরে আসতে সক্ষম হন।

গত ১৩ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর স্থানীয় ইয়ারুলের নেতৃত্বে প্রতিরাতেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরছেন জেলেরা। তুলনামূলক কম মূল্যে গোপনে এসব মাছ বিক্রি করা হয়।

কুমারখালী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, পদ্মার ওপারে চরসাদিপুর ইউনিয়নে আসামি ধরতে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ সদস্যরা। ফেরার পথে পদ্মা নদীতে জেলেদের নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তাদের নৌকার। দুর্ঘটনায় পুলিশের নৌকাটি ডুবে গেলে দুইজন এএসআই নিখোঁজ হন। বাকিরা তীরে ফিরতে সক্ষম হন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে ওই পুলিশ সদস্যরা পদ্মা নদীর ওপারে গিয়েছিলেন। কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করা হচ্ছে।”

ইলিশ মাছ লুটের অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন খবর তাদের জানা নেই। অভিযোগের তদন্ত হবে।

নিখোঁজ দুই পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধানে অভিযান চলছে বলেও জানান এসপি মিজানুর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found