রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। এসময় একটি নতুন গাড়িও আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা।
এটাই ঢাকা মহানগর এলকায় জব্দ হওয়া ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) উপপরিচালক শামীম আহমেদ।
গ্রেপ্তাররা হলো- নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার প্রয়াত আবুল হাসেমের ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে সোহেল রানা, শেরপুরের নলিতাবাড়ী উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে আল মামুন (৩২), চট্টগ্রামের খুলশী থানার প্রয়াত আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক ওরফে ওমর ফারুক (৪৬) এবং তার স্ত্রী তানিয়া (৩২)।
যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রটিকে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, প্রায় ৩ মাস আগে অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বায়িং হাউস ও আবাসন ব্যবসার আড়ালে টেকনাফ থেকে বিলাসবহুল গাড়িতে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারিতে সরবরাহ করছে। তখন থেকেই অধিদপ্তর তাদের ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখে। তবে কৌশলে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শামীম জানান, চক্রটির বিরুদ্ধে গত মাসে একটি অভিযান চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। সপ্তাহ খানেক আগে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চক্রটি ঈদ উপলক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচারের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা টেকনাফের একটি রির্সোটে দীর্ঘ সময় ধরে হুন্দাই কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়ির পাদানির নিচের প্যানেলে বিশেষ কৌশলে ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা ঢুকিয়ে রাখেন। সর্বশেষ সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের দল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালায়। অভিযানে ঢাকা মেট্রো এলাকায় আসামিদের গাড়িটি সাত কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ধাওয়া করে আটক করা হয়।
তিনি জানান, গাড়িটি আটকের পর প্যানেলের ঝালাই করা অংশ খুলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি এড়াতে তারা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বড় বড় ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠিয়েছে।
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।



