Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

১২ বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলবে নারী ফুটবল দল

3 ca
[publishpress_authors_box]

বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের শুরুটা হয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। ২০১০ সালের ২৯ জানুয়ারি এসএ গেমসে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা শুরু হয়েছিল সাবিনা খাতুনদের। ২০১৩ সালের ২৫মে ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের পর এই স্টেডিয়ামে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি নারী জাতীয় দল।

এক যুগের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে অবশেষে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল বুধবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আফঈদা খন্দকাররা খেলবেন ত্রিদেশীয় কাপের প্রথম ম্যাচ। এই টুর্নামেন্টের অন্য দলটি আজারবাইজান। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দল প্রথমবার খেলতে নামবে ২ ডিসেম্বর।

অস্ট্রেলিয়াতে আগামী বছর মার্চে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান উইমেন’স কাপ সামনে রেখে আজারবাইজান ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই প্রতিযোগিতায় খেলছে বাংলাদেশ। আফঈদা-কোহাতিদের জন্য এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি শাণিয়ে নেওয়া, কোচের কৌশল ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার উপলক্ষ্য এই টুর্নামেন্ট।

বাটলারের হাই লাইন ডিফেন্স কৌশল নিয়ে গত অক্টোবরে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের। দুই ম্যাচ মিলিয়ে গোল হজম করেছিল ৮টি, দিয়েছিল একটি। তারপরও ত্রিদেশীয় কাপে হাই লাইন ডিফেন্সেই খেলতে চান আফাঈদা,‘‘কোচরা আমাকে যেভাবে খেলার জন্য বলেছেন, আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আজারবাইজান আর মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো খেলার জন্য। সকালে আমরা অনুশীলন করেছি। কোচ আমাদের বলে দিয়েছেন কীভাবে খেলতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা ভালো কিছু করব। বাংলাদেশের মানুষকে ভালো খেলা উপহার দেব। সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তো আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব (হাই লাইন ডিফেন্সের সাথে মানিয়ে নেওয়ার)… এর আগে তো আমরা ওভাবে খেলিনি। এখন কোচ সেভাবে খেলাচ্ছেন। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করছি কোচের কথা মতো চলার।’’

এশিয়ান কাপ ও অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে এই ডিফেন্ডার বললেন, ব্যাংককের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঢাকায় চান না তিনি, “হ্যাঁ, আমরা এভাবে খেলে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ কোয়ালিফাই করছি। সিনিয়র টিমেও এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছি। অবশ্যই ভুল ত্রুটি থাকবে। সবকিছুতে তো ভুল থেকে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে যেন ভুলগুলো না হয় আমরা সেভাবে খেলব।”

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১০৪তম) চেয়ে এগিয়ে আজারবাইজান (৭৪তম) ও মালয়েশিয়া (৯২তম)। র‌্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না আফঈদা। কোচ পিটার বাটলারও ভাবছেন না র‌্যাঙ্কিং নিয়ে।

আজ সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বললেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, র‌্যাঙ্কিং কোনো বিষয় নয়। আমি বলতে চাইছি, মালয়েশিয়া এখানে ৯২ এবং আজারবাইজান ৭৪তম র‌্যাঙ্কিং নিয়ে এসেছে, কিন্তু আমি বাস্তববাদী, আমি কোনোভাবেই আমার পরিকল্পনা থেকে সরব না।’’

ঝুঁকি থাকলেও হাই লাইন ডিফেন্স নিয়েই এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা জানালেন বাটলার,‘‘  জিতি বা হারি কিংবা ড্র করি, যে পরিকল্পনা আমাদেরকে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ, এশিয়ান কাপের মঞ্চে নিয়ে গেছে, সেটা চালিয়ে যাব। মেয়েরা চমৎকার করছে। আপনারা হাই-লাইন ডিফেন্স নিয়ে যত খুশি কথা বলতে পারেন, এটা ব্যাখ্যা করার বিষয়, আপনারা জানেন ফুটবলের সাথে দীর্ঘদিন আছি এবং আমি মনে করি, যেটা উপলব্ধি করেন, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি আপনাদের।’’

আজারবাইজান ঢাকায় এসেছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিতে। মালয়েশিয়ার মূল লক্ষ্য সী গেমসের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া। আর মেয়েদের এশিয়া কাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। তিন দলের জন্যই ত্রিদেশীয় কাপটা তাই প্রস্তুতির।

জারবাইজান কোচ সিয়াসাত আসগারোভ বললেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশের সবশেষ ম্যাচগুলো দেখেছি। ওদের নিয়ে খবর পড়েছি এবং নারী ফুটবল নিয়ে এই দেশের আগ্রহ সম্পর্কে জেনেছি। এই আসর দিয়ে আমরাও বিশেষ প্রস্তুতি নেব বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য।’’

মালয়েশিয়া কোচ জোয়েল কর্নেলি নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বললেন, “এই টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সী গেমসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে আমাদের খেলতে হবে। এজন্য এখানে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৪তম স্থানে আছি, তবে আমরা বাংলাদেশকে জানি, অনেক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে অবশ্যই ওরা শক্তিশালী দল। আশা করি, টুর্নামেন্টটা আমরা উপভোগ করতে পারব।’’

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found