Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কেন এত দামী কোরিয়ার বাঁশের লবণ

korean-bamboo-salt
[publishpress_authors_box]

এক কেজির এক প্যাকেট লবণ কিনতে গিয়ে যদি ৪৫ হাজার টাকা দাম গুণতে হয়- কেমন লাগবে? আপনি যদি নিয়মিত বাজার না করেন, তাহলে জেনে রাখেন দেশের বাজারে লবণেরদর গত ছয়মাসে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় ওঠানামা করছে। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন প্রচলিত দামের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি দামের কোনও বিশেষ লবণের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে।

লবণ দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং খাবারের স্বাদ বাড়ায়। যদিও এটি প্রায়ই সস্তা এবং সহজলভ্য, তবে নির্দিষ্ট ধরনের লবণ তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং উৎপাদন পদ্ধতির কারণে অনেক প্রিমিয়াম দামে বাজারে বিক্রি হয়। এই ধরনেরই একটি ব্যতিক্রম হলো কোরিয়ান বাঁশের লবণ, যা বেগুনি ব্যাম্বু সল্ট বা জুকিয়েওম নামেও পরিচিত । যার ২৫০ গ্রামের দাম ১০০ মার্কিন ডলার। আর তাই বলা যায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামী লবণও।

স্বতন্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যের উপকারিতার জন্য বিখ্যাত, বাঁশের লবণ প্রাচীনকাল থেকেই কোরিয়ার রন্ধন শিল্প এবং ঔষধি ঐতিহ্যের একটি অংশ। এর প্রিমিয়াম দামের মূল কারণ এর সূক্ষ্ম এবং সময়-শ্রমঘন নিবিড় উৎপাদন প্রক্রিয়া, যেটি বাঁশ থেকে খনিজ বিভিন্ন উপাদান এবং পুষ্টির সঙ্গে লবণের সঙ্গে মেশে । এই শ্রমসাধ্য প্রস্তুতিটি কেবল লবণের স্বাদই বাড়িয়ে দেয় না, বরং এটিকে ভেষজ বৈশিষ্ট্যও দেয়, যা বিশ্ব বাজারে এটিকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।

কোরিয়ান বাঁশের লবণ যেভাবে হয়

নিয়মিত সামুদ্রিক লবণ বাঁশের সিলিন্ডারে ভরে এবং অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় তাপ প্রয়োগ করে এই বিশেষ লবণ তৈরি করা হয়। ‘অ্যামিথিস্ট ব্যাম্বু সল্ট’ হিসেবে প্রক্রিয়াটি পরিচিত। প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এরকম-

সামুদ্রিক লবণ দিয়ে বাঁশের নল ভর্তি করা এবং প্রাকৃতিক কাদামাটি দিয়ে সিল করে দেওয়া।

৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বাঁশের টিউবগুলোকে কমপক্ষে নয় বার উত্তপ্ত করা। শেষবার এই তাপমাত্রা ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবার উত্তপ্তকরণ প্রক্রিয়ায় বাঁশের খনিজ প্রবেশ করে লবণে এবং এর গঠন ও রঙ পরিবর্তন করে।

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি প্রায় ৫০ দিন সময় নেয়। মান নিশ্চিত করতে দক্ষ কারিগর এবং বিশেষ চুল্লির প্রয়োজন হয়। শোধন এবং ঠান্ডা করার পর্যায়গুলো শ্রম-নিবিড়, উচ্চ খরচ হয়।

কোরিয়ান বাঁশের লবণের উপকারিতা

কোরিয়ান বাঁশের লবণে নিয়মিত সামুদ্রিক লবণের তুলনায় আয়রন, পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের উচ্চমাত্রা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই খনিজগুলো হজমসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক উন্নত করে বলে মনে করা হয়। বহু শতাব্দী ধরে, এটি তার সুনাম কুড়ানো থেরাপিউটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান ওষুধের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপকারী খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ: বাঁশের লবণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রনের মতো খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ: বাঁশের লবণ প্রক্রিয়াজাত করার সময় এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়। এটি কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং বার্ধক্যের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি: বাঁশের লবণ পেটের অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রেখে হজম ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। এটি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এবং পাকস্থলির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

শরীর ডিটক্সিফাই করা: বাঁশের লবণের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এটি বিশেষত লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।

পোকামাকড় বা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর: বাঁশের লবণে মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ক্ষত সারাতে বা সংক্রমণ রোধে কার্যকর হতে পারে।

মাড়ি ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা: এটি দাঁত এবং মাড়ির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ মূল্য সত্ত্বেও  কোরিয়ান বাঁশের লবণ তার অনন্য স্বাদ এবং স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে কোরিয়া তো বটেই সারাবিশ্বেই জনপ্রিয়। সাধারণ লবণে কেবল সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে, যা বেশি পরিমাণে খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বাঁশের লবণে সোডিয়ামের পাশাপাশি প্রাকৃতিক খনিজ থাকে, যা শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। এমনকি হৃদরোগ ও উচ্চরক্ত চাপের সমস্যাও এটি কমাতে সাহায্য করে!

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found