স্বতন্ত্র কাউন্সিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সরকারি ও বেসরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার ঢাকার প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেয় সরকারী ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, লক্ষীপুর এবং হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ, বগুড়ার শিক্ষার্থীরা।
গত ১৫ দিন ধরে স্বতন্ত্র কাউন্সিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ইউনানী শিক্ষার্থীরা। প্রথমে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।
গত ৭ জুলাই স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনসহ তিন দফা দাবিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন মঙ্গলবার তারা অবস্থান নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছিলেন তারা।
তাদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে সকল ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও তাদের পেশাজীবি সংগঠনও। মঙ্গলবার আন্দোলনে যোগ দেয় বেসরকারি শিক্ষার্থীরাও।
শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করায় ১৫ দিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত ক্যাম্পাস। এর মধ্যে ৩৬তম ব্যাচে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয় সরকারিভাবে। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধায় ভর্তির শেষ দিন ১৪ জুলাই কলেজে ভর্তি হতে পারেনি কোনও শিক্ষার্থী।
ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অধিভুক্ত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত। সেখানে পাঁচ বছরের ইউএমএস ও বিএএমএস কোর্স শেষ করে শিক্ষার্থীদের এক বছর ইন্টার্নশিপ করতে হয়। প্রতি বছর দুইটি কোর্সে ২৫ জন করে ৫০ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। অচলাবস্থার কারণে শূন্য আসন রেখেই স্থগিত হয় ভর্তির প্রক্রিয়া।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন না হওয়া পর্যন্ত আর কোনও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেবেন না তারা। তাই বর্তমান শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও রয়েছে তাদের।
ভর্তি কার্যক্রমের নতুন সময়সূচি ঘোষণা হলেও ক্যাম্পাসে অবস্থান করে তা প্রতিহত করার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
আবার অধিদপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কলেজে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকার সিদ্ধান্তে শিক্ষকদেরও সমর্থন আছে বলে জানান ৩১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ রেজা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৫ জনের একটি দলের আগামী বৃহস্পতিবার আলোচনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।



