এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসাবে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করেছেন।
পেশাদার এই কূটনীতিক চার বছর আগে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কাউন্সেলর হিসাবে কাজ করে গেছেন।
হোয়াইট হাউস থেকে মঙ্গলবার বিভিন্ন পদে প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীতদের যে নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে ক্রিস্টেনসেনের নাম রয়েছে।
পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসাবে সার্জিও গোরের নামও রয়েছে।
প্রেসিডেন্টের এই মনোনয়ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ সেনেটে যাবে। সেখানে অনুমোদন পেলে ক্রিস্টেনসন রাষ্ট্রদূত হয়ে আসবেন বাংলাদেশে।
ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। নানা ঘটনায় আলোচিত হাস গত বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করেন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসাবে মনোনীত করেছিলেন ডেভিড মিলিকে। কিন্তু সেনেটে অনুমোদনের জটিলতায় তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি।
তখন ট্র্যাসি জ্যাকবসনকে শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয় ওয়াশিংটন থেকে। বলা হয়, পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত হলে ট্র্যাসি জ্যাকবসন ঢাকা থেকে ফিরে যাবেন।

ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলরের দায়িত্বে ছিলেন।
গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী সচিবের পদে আনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের গ্র্যাজুয়েট ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এছাড়া টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার আগে তিনি রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি নেন।
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হিউস্টন এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসাবে কাজ করছিলেন।
এই কূটনীতিক ইংরেজির পাশাপাশি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন; শিখেছেন ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও।
তিনি এক সময় ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল হিসাবে কাজ করেন। ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান বিষয়ক কার্যালয়ের কান্ট্রি অফিসারও ছিলেন তিনি।
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ক্রিস্টেনসেন ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র স্থানান্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের দায়িত্বও সামলে এসেছেন তিনি।



