Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

শ্রমিককে বঞ্চিত করলে ছাড় দেবে না সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মে দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মে দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও
[publishpress_authors_box]

বিলাসিতা কিছুটা কমিয়ে শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ নজর দিতে কল-কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের বঞ্চিত করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও, হুঁশিয়ার করেছেন।

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মে দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “যদি কেউ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে, তবে সে যে-ই হোক না কেন, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে কেউ স্বীকৃত হলেও আমরা তাকে কখনই ছাড় দেব না।”

আওয়ামী লীগ সরকারকে শ্রমিকবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শ্রমিকদের আয় বেড়েছে। তার দল সবসময়ই মনে করে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করাই তাদের কর্তব্য।”

কোভিড-১৯ মহামারি সময় মালিকদের প্রণোদনা প্যাকেজ এবং মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “কলকারখানা এবং উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য এটি তার সরকার করেছে এবং মালিকরা ধীরে ধীরে তা শোধ করছেন। কাজেই এর পেছনে সরকারের ভর্তুকি রয়েছে।

“যে শ্রমিকরা তাদের কঠোর শ্রম দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে মালিকদের জীবন জীবিকা উন্নত করতে বা বিলাসবহুল জীবন যাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে। সেখানে তারা বিলাসিতা একটু কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন সেটাই আমি চাই।”

শ্রমিকদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি বাংলাদেশে কিছু ভাড়াটে লোক কথায় কথায় শ্রমিকদের নিয়ে রাস্তায় নামার চেষ্টা করে। এখন যে কারখানা আপনাদের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করছে কাজের ব্যবস্থা করছে জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করছে এই কারখানা নিজেরা যদি ধ্বংস করতে যান, ভাঙচুর করেন তাহলে ক্ষতিটা কার হচ্ছে? এতে নিজের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি দেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। মালিকদেরও ক্ষতি হচ্ছে।

“কিন্তু মালিকদের তো আর একটা ব্যবসা থাকে না আরও অনেক ব্যবসা থাকে। তারা হয়তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু আপনাদের নিজেদের ক্ষতি তো আপনারা নিজেরা করেন।”

এসময় ধাপে ধাপে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণির দাবির জন্য, কথা বলার জন্য আমরা তো আছি। আমরা তো বলি। আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি সেই ভাবেই নিজেকে বিবেচনা করি।”

শ্রমিকদের কোনও অসুবিধা হলে তাদের জন্য নিজের দুয়ার সবসময় খোলা বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা দেখব এবং আমাদের শ্রমিক সংগঠনও রয়েছে।”

নিজের বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে বর্গা চাষীদের বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ, শিশু শ্রম বন্ধের উদ্যোগ, বৃত্তির ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে আমাদের বেকারের সংখ্যা ৩ শতাংশ নেমে এসেছে। যা প্রায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ছিল। কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য যুবকদের বিনা জামানাতে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি।

“কোনও সমস্যা হলে সেটা বলবেন। কিন্তু কারও প্ররোচনায় বা উস্কানিতে যেটা থেকে নিজের রুটি-রুজি ও ভাত কাপড় আসবে সেটাকে যেন ধ্বংস করা না হয়। সেটার প্রতি আপনারা অবশ্যই যত্নবান হবেন। আর মালিকদেরকে বলব, আপনারা আপনাদের বিলাসিতার কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে শ্রমিকদের কল্যাণ দেখবেন।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পায় না কিন্তু বাংলাদেশে পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কর্মজীবী মহিলার সংখ্যা ৪৩ দশমিক ৪১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ছিল মাত্র ২২ দশমিক ৮১ ভাগ। এখন মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে কাজ করতে পারছে, সে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি।”

মে দিবসের আলোচনায় আরও অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচ এম ইব্রাহিম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পুতিয়ানেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশির কবির ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত