অভ্যুত্থানের পর বছর গড়াতে চললেও জুলাই সনদ এখনও চূড়ান্ত না হওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দুষলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, যাকে এই অভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ অভিহিত করেন খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার এক ফেইসবুক পোস্টে জুলাই সনদ ঘোষণায় দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন, সবকিছুর পরও ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের জুলাইয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে, সেই প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যের চালিকা শক্তি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহফুজ।
রক্তাক্ত এক পথ পেরিয়ে সেই আন্দোলন অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তাতে গত বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। অভ্যুত্থানকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
কোনও ঘোষণপত্র ছাড়াই অভ্যুত্থান ঘটে যাওয়ার পর তার স্থায়ী স্বীকৃতির জন্য জুলাই সনদ প্রণয়নের ঘোষণা গত ডিসেম্বরে দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারই তা প্রণয়ন করবে।
ফেইসবুক পোস্টে মাহফুজ লিখেছেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র গত ৩১ ডিসেম্বর ঘোষিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের জন্য সেবার সে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বিভিন্ন দলের খসড়া প্রস্তুত হলেও ঘোষণাপত্রের বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে সংলাপ মীমাংসায় পৌঁছায়নি। বিভিন্ন ধারা নিয়ে রাজনৈতিক আদর্শিক পজিশন নিয়ে নেগোসিয়েশন থমকে যায় পরের দুই মাস। (মাঝে রমজান ছিল)।
“মে মাসে ক্যাবিনেটে আমি আবার আলাপ তুলি ঘোষণাপত্র নিয়ে। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এটা নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহ দেখায়। কিন্তু জুন মাসে আবার এটা উত্থাপন করি এবং সিদ্ধান্ত হয় সরকারের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে একটা সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রণয়ণ করবেন।”
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিনের প্রতিবেদন জমা পড়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই এর প্রধান হন, সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় আলী রীয়াজকে।
একটি জাতীয় সনদ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে টানা বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন। জুলাইয়ের মধ্যে সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আশা দেখিয়ে আসছেন আলী রীয়াজ।
মাহফুজ বলেন, “জুলাইয়ের শুরু থেকে এ প্রক্রিয়ায় কয়েকবার আলাপ হলেও রাজনৈতিক আদর্শিক (ঐতিহাসিক ও বটে) কিছু বক্তব্য নিয়ে এখনও ঐকমত্য নিশ্চিত হয়নি। কিন্তু, আশা করি সবাই ছাড় দিয়ে (ছাত্রদের অনেক বক্তব্যই নেগোশিয়েটেড হয়েছে) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে যথাযথ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সুযোগ করে দিবেন।
“আশা করি, ৫ই আগস্টের আগেই ঐকমত্য নিশ্চিত হবে এবং আমাদের প্রজন্ম ও জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মুখ দেখবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তব হবেই।”
নির্দিষ্ট কারও না না ধরেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে মাহফুজ লিখেছেন, “দল-মতাদর্শ নির্বিশেষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সকল গুরুত্বপূর্ণ পর্বের স্বীকৃতির ব্যাপারে আমরা উদার হওয়া সত্ত্বেও জুলাই ছাত্র-জনতার ন্যায্য স্বীকৃতি বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই ছাত্র-জনতার ন্যায্য স্বীকৃতি জুলাই ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হবে।”



