বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিদেশ যাত্রায়ও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত এসব আদেশ দেয়।
পাপনের সঙ্গে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন তার স্ত্রী রোকসানা হাসান, মেয়ে সুনেয়া রহমান ও রুশমিলা রহমান, ছেলে রাফসান হাসান এবং জামাতা রাকীন আল-মাহমুদ।
অন্যদিকে মাহবুব উল আলম হানিফের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলম, ছেলে ফাহিম আফসার আলম ও ফারহান সাদিক আলম এবং মেয়ে তানিশা আলম।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের পক্ষে করা আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ। এই অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
এছাড়া গোপন সূত্রে দুদক জানতে পেরেছে নাজমুল হাসান পাপন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে (কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা এলাকা ছাড়াও অন্যান্য এলাকায়) এবং দেশের বাইরে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
অভিযুক্তরা তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন বলে জানতে পেরেছে দুদক। এ অবস্থায় তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধানকাজ ব্যাহত হতে পারে। সে কারণেই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে মনে করে দুদক।
অন্যদিকে মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়েছে, হানিফের বিরুদ্ধে পদ্মা ও গড়াই নদীর বালুমহাল থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডার, বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, হাটবাজার ইজারা বাণিজ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ বিদেশে পাচার ও স্ত্রীর নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানও চলছে।
দুদক জানতে পেরেছে, মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে (কুষ্টিয়া, খুলনা, পটুয়াখালী, মোংলা, কক্সবাজার, টেকনাফ এলাকা ছাড়াও অন্যান্য এলাকায়) এবং দেশের বাইরে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে নিজেদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে দুদকের কাছে খবর রয়েছে। কিন্তু তারা চলে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হতে পারে, সে কারণেই দাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছে দুদক।
পরিবারসহ সাবেক মেয়র হান্নানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগে নেত্রকোনার মদন পৌরসভার সাবেক মো. আব্দুল হান্নান তালুকদার, স্ত্রী খুশনো চৌধুরী, তিন ছেলে মুজিবুল হাসান খালেদা, রেজয়ানুল হাসান ইমন এবং আবরার হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছে একই আদালত।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আব্দুল হান্নান তালুকদার এবং তার অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাট বাজার ইজারার অর্থ লোপাট, টেন্ডার বাণিজ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতপূর্বক নিজের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
এ অবস্থায় তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্যই আদালতে আবেদন করেছে দুদক।



