Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

গোলাম আযমের পক্ষে স্লোগানের দায়িত্ব নিতে নারাজ এনসিপি

shabagh-rally-for-banning-awami-league-1
[publishpress_authors_box]

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগের সমাবেশে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত গোলাম আযমের পক্ষে রব ওঠা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সেই স্লোগানের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানোর অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া এই দল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, যেসব আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তার দায়-দায়িত্ব তাদের নয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। তার ছয় মাস পর এই প্ল্যটফর্মের নেতৃত্বাদাতারা এনসিপি গড়ে তুলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে সরব হয়।

অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এবং পরে শাহবাগে অবস্থান নেয় এনসিপি। তাদের ডাকে আরও বিভিন্ন দল ও সংগঠনের কর্মীরাও অবস্থান নেয় সেখানে।

তাদের চাপে শনিবার উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দল হিসাবে বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে।

এদিকে শাহবাগের অবস্থানের সময় ‘গোলাম আযমের বাংলায়, আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’ স্লোগান উঠেছিল। পাশাপাশি সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পর শনিবার শাহবাগে এনসিপি নেতারা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে শুরু করলে উপস্থিত একদল বাধা দিয়ে বলে ‘জাতীয় সঙ্গীত হবে না’। তাদের আপত্তির মধ্যেও জাতীয় সঙ্গীত চলতে থাকলে তারা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগানও দেয়।

সেই সমাবেশে যোগ দেওয়া জামায়ােত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ কিছু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই বাধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সোমবার এনসিপির পক্ষে দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত বিবৃতি দেন।

তাতে কোনও দল কিংবা স্লোগানের বিষয়বস্তু উল্লেখ না করে বলঅ হয়, “একটি পক্ষ সচেতনভাবে দলীয় স্লোগান এবং বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রামবিরোধী স্লোগান দিয়েছে।

“এনসিপির কোনও সদস্য সাম্প্রতিক আন্দোলনে দলীয় স্লোগান কিংবা এই জনপদের মানুষের সংগ্রাম ও ইতিহাসবিরোধী কোনও স্লোগান দেয়নি। ফলে যেসব আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষটিকেই বহন করতে হবে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনের সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন নিয়েও একটি পক্ষ আপত্তি তুলেছিল, তবে আন্দোলনকারীরা সেই বাধা উপেক্ষা করে দৃঢ়ভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

একাত্তর প্রশ্নে এনসিপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে বলা হয়, “এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি অধ্যায়—১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪—এর যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া ছাড়া রাজনীতির ভিত্তি গড়া সম্ভব নয়।

“যারা ১৯৭১ সালের গণযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে, তাদের উচিৎ আজ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করা এবং জাতীয় ঐক্য ও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।”

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচারে উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর। সেই বিচারে গোলাম আযমসহ জামায়াতের শীর্ষনেতাদের সাজা হয়েছিল।

গত বছর আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েকদিন আগে জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে কর্মসূচি থেকে বিতর্কিত স্লোগান ওঠার পর জুলাই অভ্যুত্থানে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচিত এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন।

সেখানে জামায়াতকে নিয়ে তিনি বলেন, “৭১ এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানপন্থা বাদ দিতে হবে। পাকিস্তান এদেশে গণহত্যা চলিয়েছে। (পাকিস্তান অফিসিয়ালি ক্ষমা চাইলেও, তদুপরি আবারো ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও, যুদ্ধাপরাধের সহযোগীরা এখনও ক্ষমা চায়নি)। ইনিয়ে বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। জুলাইয়ের শক্তির মধ্যে ঢুকে স্যাবোট্যাজ করা বন্ধ করতে হবে। সাফ দিলে আসতে হবে।”

মাহফুজ আলমের সেই পোস্টের পর জামায়াত সমর্থকরা তার সমালাচনায় নামে। গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় মাহফুজ নাম দিয়ে একটি গরু জবাই দেয়। এনিয়ে পরে মাহফুজ ক্ষোভ জানিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিলেও পরে তা মুছে ফেলেন। তবে তা ধরে এনসিপি সমর্থকরা সোশাল মিডিয়ায় জামায়াতের সমালোচনা করছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found