কক্সবাজারের চকরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কথা রাঙামাটি সমাবেশে তুললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা; বিএনপির কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করার কথা জানালেন তারা।
জুলাই পদযাত্রা নিয়ে শনিবার কক্সবাজারে গিয়েছিল এনসিপি; জেলা শহরে সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চকরিয়ায় দলটির পথসভার মঞ্চ ভাংচুর করে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
কক্সবাজার থেকে বান্দরবান হয়ে রাঙামাটিতে গিয়ে সমাবেশে সেই প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) মো. সারজিস আলম।
তিনি বলেন, “আমাদের যে কোনও কথা বা কাজে যদি ভুল হয়, তবে আমরা সংশোধন করে নেব। কিন্তু কথার সাথে কথার লড়াই হতে পারে; কথার সাথে কখনও গায়ে হাত দেওয়া, মঞ্জে আগুন দেওয়ার লড়াই হতে পারে না। এগুলো ফ্যাসিবাদী চরিত্র।”
যে অভ্যুত্থানে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, তার নেতৃত্বদাতা তরুণদের গড়া দল এনসিপির সঙ্গে বিএনপির নেতাদের পাল্টাপাল্টি বাক আক্রমণ তীব্র হয়ে উঠেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের বছর পূর্তির এই পদযাত্রা থেকে পটুয়াখালীর সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপি ‘চাঁদাবাজদের দল’ও বলেছিলেন। পাল্টায় বিএনপির বিভিন্ন নেতাও এনসিপিকে কটাক্ষ করে কথা বলছেন।
তার মধ্যেই শনিবার কক্সবাজারের সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, এই জেলার সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ইঙ্গিত করে এনসিপির মুখ্য সমন্বক নাসীরুদ্দীন বলেন, “আগে নারায়ণগঞ্জে বিখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমান ছিল। এখন শুনছি কক্সবাজারের নব্য গডফাদার শিলং থেকে এসেছে।
“ঘের দখল করছে, মানুষের জায়গা-জমি দখল করছে। চাঁদাবাজি দখল করছে। আবার নাকি সে সংস্কার বুঝে না। নাম না বললাম।”
তার বক্তব্যের পরপরই কক্সবাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল শুরু করে। সালাহউদ্দিনের এলাকা চকরিয়ায় এনসিপির পথসভার মঞ্চে হামলা চালিয়ে তা ভাংচুর করে। চকরিয়ায় মহাসড়কও অবরোধ করে তারা। পরে পুলিশ-সেনাবাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রাঙামাটির সমাবেশ মঞ্চে নাসীরুদ্দীনকে পাশে রেখেই সারজিস বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা যেমন আমাদের ভুল সংশোধন করব, তেমনি আমরা দেখব আমাদের প্রবীণরা কী কথা বলছে?
“আমাদের প্রবীণরা যদি কথায় কথায় আমাদের সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা ্বলে, কথায় কথায় আমাদের বিভিন্নভাবে ছোট শব্দ বলে তিরস্কার করে, তাহলে আমরা বুঝে নেব, তাদের কাছ থেকে আমাদের আর শেখার কিছু নেই।”
বিএনপির উদ্দেশে সারজিস বলেন, “আমরা সম্প্রীতির রাজনীতি চাই, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের রাজনীতি চাই, লড়াই-সংগ্রামের-সুন্দরের রাজনীতি চাই।”
তার কথার প্রতিধ্বনি তুলে রাঙামাটির সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য চান।
“জনগণের কাছে আমরা সবাই বক্তব্য নিয়ে যাব, এরপর জনগণই ঠিক করবে, তারা কার সঙ্গে যাবে।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ জিইয়ে রেখে তার সুবিধা নিত বলে দাবি করেন জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা নাহিদ।
পাহাড়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে, নানা বিভাজন অশান্তি জিইয়ে রেখে অন্য একটি পক্ষ বারবার সুবিধা নেওয়া চেষ্টা করে। আমরা তৃতীয় কোনও পক্ষকে আর সুবিধা নিতে দেব না।
“এখানে যদি কোনও সমস্যা থাকে, সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কোনও সমস্যা থাকে, আমরা নিজেরা তার সুরাহা করব। আর অন্য কোনও পক্ষকে এর সুযোগ আমরা নিতে দেব না।”
পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জানি, পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা, ধর্ম, ভূমির অধিকার নিয়ে লড়াই করছে। অন্যদিকে যে বাঙালি জনগোষ্ঠী রয়েছে, তারাও নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উভয় জনগোষ্ঠী এখানে নির্যাতিত-অধিকারহীন। আমাদের লড়াইটা হবে একসাথে, কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না।”
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের কালে তার বিরোধিতায় পাহাড়ি নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার সোচ্চার থাকার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, তারা ‘মুজিববাদী’ এই সংবিধান বাতিল করে নতুন একটি সংবিধান তৈরি করতে চান, যেখানে সব জাতি গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
“নতুন একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান আমরা তৈরি করব, যেখানে আপনার-আমার অধিকার থাকবে,” বলেন তিনি।



