Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে নৌকা প্রতীক নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে : এনসিপি

ncp-rally-dhaka-020525-01
[publishpress_authors_box]

ঢাকায় সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।

এই দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাড়া না দিলে জনতার আদালত বসিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

যে অভ্যুত্থানে গত বছর আওয়ামী লীগের দেড় বছরের শাসনের অবসান হয়েছে, সেই অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সমাবেশ হয়।

সমাবেশে নাহিদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নয় মাস পরও আওয়মী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আমাদের রাজপথে নেমে আসতে হচ্ছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে আমরা মনে করি।”

গত ১৫ বছরে যে ‘ফ্যাসিবাদ’ দেশে কায়েম হয়েছিল, তার বিচারের দাবিতেই গত জুলাইয়ে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনও রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এদেশে রাজনীতি করার কোনও অধিকার আওয়ামী লীগ রাখে না।

“আমরা এজন্য বলছি, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বিচার চলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করতে হবে।”

অভ্যুত্থানের পরপরই এই দাবি তোলার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, “কিন্তু গত ৯ মাসেও বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দলে ঢুকে আওয়ামী লীগ তৃণমূলে পুনর্বাসিত হওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।”

নির্বাচন সংস্কার কমিশন গণহত্যাকারীদের ভোটে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেও নির্বাচন কমিশন তা আমলে না নেওয়ার সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়।

তিনি বলেন, “নৌকা প্রতীককে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে বাংলাদেশ থেকে।”

এসময় সমাবেশ থেকে স্লোগান ওঠে- ‘বিচার বিচার বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই মাটিতে হবে না’।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এসে রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নেওয়া নাহিদ পাড়া-মহল্লায় জনসংযোগ ও জনতার আদালত গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি এই সরকার ব্যর্থ হয় বিচার করতে, তাহলে আমরা বসে থাকব না, জনতার আদালতে আওয়ামী লীগের সেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

জুলাই সনদ দ্রুত তৈরি করে সেখানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার দাবিও জানান তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানে পর রাজনৈতিক দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে জনগণ তাদের নেতৃত্ব মেনে নেয়নি।

“বিগত ১৬ বছর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে জনগণ ফ্যাসিবাদবিরোদী লড়াইয়ে রাজপথে নেমে আসেনি। বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে নেমে এসেছিল ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে।”

“ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই অভ্যুত্থানের পরই কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই তারা সেই স্বপ্ন দেখতে পারছে,” বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, “বিভিন্ন মিডিয়ায় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সাহস পাচ্ছে যে শেখ হাসিনা যে গণহত্যাকারী, তা কি প্রমাণিত হয়েছে? আমরা বলতে চাই আপনারা সাংবাদিক নন, আপনারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর।”

জািতসংঘের প্রতিবেদনেই আওয়ামী লীগের পরিকল্পনায়, শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গণহত্যার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

নতুন সংবিধান চাওয়ার কারণ তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “একাত্তরের পর আমার সোনার বাংলার স্বপ্ন মুজিববাদীদের হাতে বেহাত হয়ে গিয়েছিল। মুজিববাদীরা ৭২ এর সংবিধানের মাধ্যমে আমাদের সার্বভৌমত্ব ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।

“মুজিববাদী সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ভাষার অধিকার দমন করা হয়েছিল। মুজিববাদী সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সংস্কৃতি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। সমাজতন্ত্রের নামে এখানে জাতীয় পুঁজির বিকাশ ব্যর্থ করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।”

নাহিদ বলেন, “সেজন্য আমরা একটি নতুন সংবিধানের কথা বলছি, সেজন্য একটি আইনসভা ও গণরিষদ নির্বাচন করতে হবে।”

এনসিপি একটি নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা, একটি নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট জাতি আস্থা রেখেছিল, আমরা বিশ্বাস করি জাতি এখনও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।”

সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, “গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আমরা টালবাহানা দেখতে পাচ্ছি, এটা লজ্জাজনক।

“অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখতে চাই না। আওয়ামী লীগের বিচার ও সংস্কারের পর নির্বাচনে যেতে হবে।”

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগ আর কখনও রাজনীতি করতে পারবে না।”

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী বলেন, “মৌলিক সংস্কার ছাড়া আবারও একটি নির্বাচনের দিকে গেলে শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে।”

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বলেন, “আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে ন্যূনতম টালবাহানা করবেন না। মৌলিক সংস্কারের আগে কোনও নির্বাচন নয়।”

কয়েকটি দল এনসিপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, “এনসিপির বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা শেষ হবে। এনসিপির একজন কর্মী জীবিত থাকতে বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে না।”

সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাসহ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহত অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found