Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কেন ‘নগ্ন পোশাকে’ সেলিব্রিটিরা!

naked-dress
[publishpress_authors_box]

অস্কার বলুন আর মেট গালাই বলুন, ২০২৪ সালে এই ইভেন্টগুলোতে রেড কার্পেট ট্রেন্ড হয়ে উঠেছিল ন্যাকেড ড্রেস বা নগ্ন পোশাক। এল ফ্যানিং থেকে কিম কার্দাশিয়ান, ডোজা ক্যাট থেকে চার্লিজ থেরনের মতো তারকারাও গায়ে জড়াচ্ছেন এই পোশাক। তবে এগুলোকে পোশাক বলা যায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক তো থেকেই যায়।

গত বছরের ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কার পরবর্তী পার্টিতেও দেখা গিয়েছিল ‘নেকেড ড্রেসের’ প্রদর্শন। নগ্নতা আর সৌন্দর্যের যেন একে অপরকে জড়িয়ে ছিল সেখানে। অনেকেই যাকে দেখছেন সাহসী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে।

কিন্তু রোববার অনুষ্ঠিত গ্র্যামিতে যা হলো তা যেন বিগত সময়ের সবকিছুকে হার মানালো। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিধ্বংসী দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় সব অতিথিই বেছে নিয়েছিলেন সংযত পোশাক। কিন্তু এর মাঝেও, অস্ট্রেলিয়ান আর্কিটেক্ট বিয়ানকা সেন্সরি হাঁটলেন ভিন্ন পথে।

কেনি ওয়েস্টের সঙ্গে বিয়ানকা সেনসরি

সেদিনের গ্র্যামির আয়োজনে স্বামী র‍্যাপার কেনি ওয়েস্ট এর সঙ্গে সেন্সরি এসেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান এই মডেল, এ-দিন যেন একটু বেশিই স্বভাববিরুদ্ধ সংযত পোশাক পরে এসেছিলেন, আসলে পরনের লম্বা কোর্টটি তিনি যে বেশিক্ষণ গায়েই রাখতে চাননি।  রেড কার্পেটে হাঁটার সময় এই মডেল ক্যামেরার দিকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে এক ঝটকায় ফেলে দেন নিজের কোর্ট। আর তাতে যা দেখা গেল, তা ছিল উপস্থিত দর্শকদের কল্পনার অতীত।

কিন্তু ‘নেকেড ড্রেস’ গায়ে জড়িয়ে তারকাদের নানা ইভেন্টে হাজিরা দেওয়ার ঘটনা দুনিয়াতে এই প্রথম নয়। নিকট অতীতেই এমন ঘটেছে বেশ কয়েকবার। সেইসব গল্প জানার আগে আমরা বরং জেনে নিই, তারকাদের ‘নগ্ন পোশাক’ পরিধানের কারণ এবং এর পেছনের দর্শন। এটি যে তারা কেবল মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই করেন এমন নয়; বরং এতে নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিষয়সহ ব্যক্তিগত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

বডি পজিটিভিটি

আজকাল ‘বডি পজিটিভিটি’ কথাটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এর মানে হলো নিজের শরীর যেমনই হোক, তা নিয়ে ইতিবাচক এবং গর্বিত মনোভাব পোষণ করা। আর এই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই শরীর নিয়ে সমাজে বলবৎ থাকা ধারণা ভেঙ্গে ফেলতে চান। সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড ভাঙার একটি প্রয়াস হিসেবেই তাই ‘নগ্ন পোশাক’ জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষত পশ্চিমের কোন কোন নারী তারকা ‘নগ্ন পোশাক’ ধারণাটির মাধ্যমে তাদের শরীর নিয়ে লজ্জাহীন হওয়ার বার্তা দিতে চান। অর্থাৎ শরীর যেমনই হোক, প্রদর্শনযোগ্য।

নারীর ক্ষমতায়ন

নারীর ক্ষমতায়ন শুধু কাজ কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের বিষয় নয়- এমনটিই মনে করেন বহু নারী তারকা। তাদের মতে, ইচ্ছে মতোন পোশাক পরিধানের স্বাধীনতাও এই ক্ষমতায়নের অংশ। তাদের বিশ্বাস, পোশাকের মাধ্যমে নারীর স্বাধীনতা ও ব্যক্তিসত্ত্বা জোরালোভাবে প্রকাশ পায়। যেহেতু ঐতিহাসিকভাবে, নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং আছে। ফলে ‘নেকেড ড্রেস’ সেই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।

কিম কারদাশিয়ান

ফ্যাশন স্টেটমেন্ট

নেকেড ড্রেস’ ফ্যাশনের একটি শৈল্পিক দিক তুলে ধরে বলে মনে করেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এতে শরীরকে ক্যানভাস হিসেবে দেখা হয়।

মনোযোগ আকর্ষণ ও পপ কালচার স্টেটমেন্ট

রেড কার্পেট ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া ইভেন্টে তারকাদের মনোযোগ আকর্ষণের একটি উপায় হলো ‘নগ্ন পোশাক’। মিডিয়া কভারেজ পাওয়া ও ট্রেন্ড সেট করার জন্য অনেক তারকা ‘নেকেড ড্রেস’ বেছে নেন।

কনজারভেটিজমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

অনেক নারী তারকার কাছে ‘নগ্ন পোশাক’ সমাজের রক্ষণশীল মূল্যবোধের বিপরীতে একটি প্রতিবাদ। তারা, ‘আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত’ এই দর্শনে আস্থা রাখেন।

এবার জানা যাক, এই সময়ে ‘নেকেড ড্রেস’ এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কোন কোন তারকার নাম।

কিম কার্দাশিয়ান

২০২২ সালের মেট গালায় কার্দাশিয়ান পরেছিলেন মেরিলিন মনরোর বিখ্যাত শিয়ার বেডাজলড বব ম্যাকি ড্রেসটি। ১৯৬২ সালে জন এফ. কেনেডিকে বার্থডে উইশ করে মনরো গেয়েছিলেন ‘হ্যাপি বার্থডে, মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ গানটি। তখন তার ত্বকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে মনরো যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে দর্শক চোখে মনরোকে নগ্ন বলেই মনে হচ্ছিল।

রিয়ানা
২০১৪ সালের সিএফডিএ ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে রিয়ানা গায়ে একটি স্বচ্ছ অ্যাডাম সেলম্যান ড্রেস পরেছিলেন। ২ লাখ ১৬ হাজার সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে সাজানো ওই পোশাক পরে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রিয়ানা। ওই পোশাকের সঙ্গে তিনি বেডাজলড পরেননি বলে, তার আফসোস ছিল।

রিয়ানা

২০১৬ সালে ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সঙ্গীত শিল্পী বলেন, “সিএফডিএ-তে যেটা পরেছিলাম, ওভাবে আসলে এখন কল্পনা করাও কঠিন। বেডাজলড (এক ধরনের পোশাক) হলেই মানাতো। এটাই আমার জীবনের একমাত্র আফসোস।”

এছাড়াও নিকট অতীতে আমেরিকান মডেল কেন্ডাল জেনার, সিঙ্গার সংরাইটার ও অভিনেত্রী মাইলি সাইরাস এবং আমেরিকান সিঙ্গার সংরাইটার ও অভিনেত্রী টনি ব্র্যাক্সটন সহ আরও অনেকেই ‘নেকেড ড্রেস’ পরে আলোচনায় এসেছিলেন।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found