Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মুশফিকের নাটকীয় নটআউট ৯৯

mUSHFIQ
[publishpress_authors_box]

৯৩ রানে থাকা অবস্থা থেকেই আলোচনার শুরু। মুশফিক কি দিনের শেষ দুই ওভারের কোন বলে চার মেরে দিবেন! যদি এই অবস্থায় সাকিব আল হাসান থাকতেন তবে হয়তো চট করে এক-দুটি চারে সেঞ্চুরিটা করেই ফেলতেন। শততম টেস্টে শতকের রঙে রাঙিয়ে নিতেন নিজেকে। কিন্তু মুশফিক সেই কাতারের নন, তিনি পরিশ্রম-ধৈর্য্য-অপেক্ষায় বিশ্বাসী। তাই শেষ দুটি ওভারে কোন বাজে শট নয়, সিঙ্গেল নিয়ে চলে গেলেন সেঞ্চুরির কাছে।

তখনও চিন্তা ছিল মুশফিকের সেঞ্চুরিটা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিনই হবে। দিনের আলো তখনও ছিল কিন্তু ওভার চালানোর সময় ছিল না। তবুও দিনের শেষ ওভার পর দুই আম্পায়ার কি যেন একটু আলাপ করলেন। তাদের দিকে তাকিয়ে মুশফিকও অপেক্ষা করলেন। আর একটি ওভার হলেই তো এদিনেই সেঞ্চুরিটা হয়ে যাচ্ছে!

কিন্তু না আম্পায়াররা স্ট্যাম্পের বেলে আঙ্গুল ছোঁয়ালেন, বেলে লাল আলো জ্বলে উঠলো। দিনের খেলা শেষ, মুশফিক অপরাজিত ৯৯ রানে। সত্যিই নাটকীয় ৯৯!

মুশফিকের জন্য এই টেস্ট রোমাঞ্চ-উত্তেজনা-ভালো লাগা মিলিয়ে মিশ্র সময় উপহার দিচ্ছে। দিনের শুরুতে ছিল ভালো লাগা। কীর্তির গল্প মাখা। পুরো দিন উইকেটে টিকে থাকার উত্তেজনা। আর দিন শেষে ১ রানের রোমাঞ্চ। এ যেন শ্বাসরুদ্ধকর কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট। সেখানে নায়ক নন, দর্শক মুশফিক নিজেই।

শততম টেস্টে ৯৯ রানে নটআউট থেকে হোটেলে ফিরলেন মুশফিক, কাল সকালে একটি সিঙ্গেল শততম টেস্টে তার সেঞ্চুরির কীর্তি পূরণ করবে। সেই উত্তেজনা ও রোমাঞ্চে আজকের রাতে কি ঘুম হবে মুশফিকের! হতেই হবে। তিনি তো শান্ত, বরফশীতল মস্তিকের একজন। সেঞ্চুরির এতকাছে গিয়েছেন, সেঞ্চুরি আদায় করতে মুশফিক পটু। হতে পারে শততম টেস্টে দ্বিশতকও পেয়ে যেতে পারেন!

এমন সোনায় সোহাগা দিন বিশ্বের যে কোন ক্রিকেটারের পরম আরাধ্য। নিজে খেলবেন শততম টেস্ট, ম্যাচ হবে ঘরের মাঠে, সেই ম্যাচে নিজে করবেন সেঞ্চুরি। কোটি ক্রিকেটারের সেই স্বপ্ন সত্যি নাও হতে পারে, তবে মুশফিকেরটা হওয়ার অপেক্ষায়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাকি ১১জন ক্রিকেটারের মতো মুশফিকের সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে। কীর্তিমানদের ক্লাবে পা রাখার দিনে নিজেকে আরও একটু উজ্জ্বল করে নিযতে চলেছেন বাংলাদেশ ব্যাটার।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন আরও ১১জন। ১৯৬৮ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ রান করেন। এরপর ভারতের সঙ্গে জাভেদ মিঁয়াদাদের ১৪৫, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গর্ডন গ্রিনিজের ১৪৯, উইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্টের ১০৫, ভারতের বিপক্ষে ইনজামাম উল হকের ১৮৪, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রায়েম স্মিথের ১৪৩, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাশিম আমলার ১৩৪, ভারতের বিপক্ষে জো রুটের ২১৮ আর সবশেষ ডেভিড ওয়ার্নারের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০।

এই ১১জন ব্যাটারের পর ছোট লিস্টে যুক্ত হতে পারেন মুশফিক। মিরপুরে নিজের পরিচিত মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে তিনি। শততম টেস্টে সাড়ে ৬ হাজার টেস্ট রানের দিকে এগোচ্ছেন মুশি। এই মাঠেই আছে তার তিনটি দ্বিশতকের দুটি। আর এই মাঠে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৯৫৪ রান আছে মুশফিকের। তার ক্যারিয়ারে এক মাঠে সর্বোচ্চ। ১৩ সেঞ্চুরির পঞ্চমটিও মিরপুরে হতে যাচ্ছে।

এমন দিনে মুশফিকের ব্যাটেই দিন শেষে উইকেটে৯২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে একশ রানের আগেই তিন উইকেট পড়লে মুশফিক ও মুমিনুল মিলে বড় জুটি গড়েন। তাতে ১০৭ রান যোগ হয় দলের স্কোরে। মুমিনুল হক ১২৮ বলে ১ চারে ৬৩ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। এর আগে মাহমুদুল হাসান জয় ৩৪ ও সাদমান ইসলাম ৩৫ রান করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ রানে দ্রুত ফিরলে লিটনের সঙ্গে আবার বড় জুটি গড়েন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত লিটন দাস ৮৬ বলে ৪৭ ও মুশফিক ১৮৭ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের জুটি ৯০ রানের।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found