Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের আগেই জনসমুদ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

শনিবার সকাল ১০টা থেকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। ছবি : জামায়াতে ইসলামীর সৌজন্যে
শনিবার সকাল ১০টা থেকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। ছবি : জামায়াতে ইসলামীর সৌজন্যে
[publishpress_authors_box]

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাসহ ‘সাত দফা’ দাবি আদায়ে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ শনিবার। এজন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

বাসস জানিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রথমবারের মতো মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল ১০টা থেকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

বিডিনিউজ জানিয়েছে, জামায়াতের সমাবেশের আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে মঞ্চের চারপাশে নেতাকর্মীদের সমাবেশ জনসভায় রূপ নিয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সঙ্গীত পরিবেশন করছে সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী।

মঞ্চ নির্মাণ, অতিথিদের জন্য আসন, বিভিন্ন স্থানে মাইক, বড় পর্দা স্থাপন, উদ্যানজুড়ে জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বসানোর কাজ ভোরের আগেই শেষ হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই দিকে প্রবেশ পথে তৈরি করা হয়েছে বিশাল গেইট। আর মধ্য রাত থেকেই আসতে শুরু করেন বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা।

বিশাল মঞ্চে টানানো ব্যানারে রয়েছে জাতীয় সমাবেশ-২০২৫ লেখা, পাশেই স্থান পেয়েছে দলটির প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’। লাল কার্পেট বিছানো হয়েছে মঞ্চে এবং মঞ্চের সামনের দিকে যেখানে অতিথিদের আসন।

জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশে’ অংশ নিতে দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশে ভিড় করছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ এলাকায় বিপুল সংখ্যক জামায়াত নেতাকর্মীদের দেখা গেছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, টিএসসি, বটতলা, কলাভবন ও কার্জন এলাকায় ভোর থেকে অনেককে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।

প্রথম আলো জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছেন দলটির নেতা–কর্মীরা। মিছিলে ‘সমাবেশ সফল’ হোক বলে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। মেট্রোরেলেও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ভিড় রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, সমাবেশে তারা বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তারাও বক্তব্য দেবেন।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা-উত্তর এই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে জামায়াত। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্যের পাশাপাশি গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সমাবেশ হতে যাচ্ছে। সমাবেশে বড় ধরনের জমায়েত নিশ্চিত করতে রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি।

জামায়াত জানিয়েছে, এই সমাবেশে তাদের মূল দাবি হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রভৃতি।

বাসস জানিয়েছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা, জুলাই গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারসহ ‘সাত দফা’ দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে জনসমাগম বাড়ছে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে আগত নেতাকর্মীদের মাঝে। স্বতঃস্ফূর্ত, বাধাহীন অবস্থায় দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দলের জাতীয় এ সমাবেশ স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশস্থলের সব প্রস্তুতি শুক্রবারই শেষ করেছে দলটি। মাঠের চারপাশে টানানো হয়েছে ব্যানারু-ফেস্টুন, মঞ্চের সামনে সাজানো হয়েছে সারি সারি চেয়ার, টয়লেট ও পানির কলসহ জায়ান্ট স্ক্রিন সবই প্রস্তুত।

সরেজমিন দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মঞ্চের সামনে শুক্রবার রাতেই জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা। তাদের কারও পরনে জামায়াতে ইসলামীর লোগো সংবলিত টি-শার্ট। কারো মাথায় বাঁধা দলীয় সাদা ফিতা। আবার কেউ কেউ এনেছেন দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাও। রাতে মঞ্চের সামনে ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের অনেকেই সেখানে শুয়ে-বসে রাতে সময় কাটান। কেউ দিতে থাকেন দলীয় স্লোগান। এশা ও ফজর নামাজ সেখানেই আদায় করেন তারা।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন আবু কাউছার। সমাবেশের মূল মঞ্চের পাশেই বসে ছিলেন তিনি। জানতে চাইলে আবু কাউছার বলেন, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী আসবেন। ঢাকার পাশের জেলা হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে। তিনি তার কয়েক বন্ধুসহ সমাবেশের আগের রাতেই এসেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতেই মূলত আগেভাগে চলে আসা বলেও জানান আবু কাউছার।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে এসেছেন ইউসুফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারবো ভেবে ভীষণ ভালো লাগছে।

রাতে মাঠেই ছিলেন সাতক্ষীরার ইউসুফ হোসেন।

সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে এসে শুক্রবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১০টায় কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর হামদ ও নাত পরিবেশন করা হবে। আর মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ২টায়।

তিনি আরও রবলেন, সমাবেশস্থলে ২০টি পয়েন্টে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা শহরের বাইরে থেকে যারা আসবেন, তাদের জন্য কমপক্ষে ১৫টি পার্কিং পয়েন্ট রাখা হয়েছে। সারা দেশ থেকে রাজধানীতে মানুষের ঢল নামবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে এমন রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজনকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনিক সমন্বয়কারীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক বালু ছিটানো, চেয়ার বসানো, টয়লেট ও পানির কল স্থাপন, জায়ান্ট স্ক্রিনের তার সংযোগসহ নানা কাজে ব্যস্ততায়। মাঠজুড়ে পানি অপসারণের জন্য ফেলা হয়েছে বালু ও কংক্রিট, ছিটানো হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। সুশৃঙ্খল ও গোছানো একটি মহাসমাবেশ উপহার দিতে সর্বাত্মক মনিটরিং করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই মাঠের প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে শেষ করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। প্রায় এক মাস ধরেই আমরা মনিটরিং করছি। আবহাওয়া কিছুটা দুর্যোগপূর্ণ হওয়ায় মাঝে মধ্যেই পানি নিষ্কাশন, ইট ফেলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে।”

দায়িত্বপালনরত স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, মাঠে তৈরি করা হয়েছে ৫ শতাধিক অস্থায়ী টয়লেট। ওজুর জন্য ১ হাজারেরও বেশি ব্যবস্থাগ্রহণ ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। অগণিত নেতাকর্মী ও সমাবেশে আগত সাধারণ মানুষের অসুবিধা যেন না হয়, তা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকাজুড়ে রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলেও যেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মানুষের কষ্ট না হয়, সে জন্য আমাদের কর্মীরা সব ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিরাপত্তা, সেবাপ্রদান ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।”

মঞ্চের দু’পাশে থাকছে দুটি বড় জায়ান্ট স্ক্রিন এবং সমাবেশের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টিরও বেশি পয়েন্টে বসানো হয়েছে এলইডি স্ক্রিন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ৪শ’টির বেশি মাইক বসানো হয়েছে। অতিথি ও নেতাদের বসার জন্য মঞ্চের সামনের দু’পাশে রাখা হয়েছে ৬শ’ চেয়ার।

মাঠের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মনিটরিং সেল। দলে ৬ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক ৮টি বিভাগের আওতায় কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ঢাকার বাইরের বাসগুলোর ড্রপিং পয়েন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বিশেষ ট্রেনে চড়ে সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন। এসেছেন সড়ক ও নৌপথেও।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found