Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে রোড মার্চে বামরা

left-road-march-to-chattogram-port-270625-02
[publishpress_authors_box]

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি নিয়োগ এবং রাখাইনে করিডোর দেওয়ার বিরোধিতা করে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ শুরু করেছে বাম দলগুলো।

শুক্রবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই রোড মার্চ শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ বাম দলগুলোর নেতা-কর্মীরা সক্রিয়।

কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “মা-মাটি-মোহনা কোনোভাবেই আমরা বিদেশিদের হাতে দেব না। দেশবিরোধী যে কোনও ষড়যন্ত্র দেশপ্রেমিক জনগণ রুখে দেবে।”

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতাসহ রাখাইনের জন্য মানবিক করিডোর চালুর প্রতিবাদে এ রোর্ডমার্চ, বলেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নসু উপস্থিত ছিলেন।

অর্ধ শতাধিক সংগঠনের ৬ শতাধিক সদস্য ঢাকা থেকে রোড মার্চ শুরু করেছেন জানিয়ে প্রিন্স বলেন, পথে বিভিন্ন স্থান থেকে আরও মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম যাবে।

গাড়িবহর নিয়ে রোড মার্চ শুরুর পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, কুমিল্লার চান্দিনাসহ কয়েকটি স্থানে পথ সভা হবে। প্রথম দিনের সমাপনী সমাবেশ হবে বিকালে কুমিল্লার টাউন হল ময়দানে।  

এর পর রাতেই ফেনীতে পৌঁছবে রোড মার্চ। সেখানে রাত যাপনের পর শনিবার সকালে ফেনীতে সমাবেশ করে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা শুরু হবে। মিরসরাই, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভার পর বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষে হবে রোড মার্চ।

প্রিন্স বলেন, “নিউ মুরিং টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পরিচালনা করতে হবে। রাখাইনে করিডোর দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকারের যত গোপন চুক্তি আছে, তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে তখন বিরোধিতা হচ্ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ব্যানারে আন্দোলনও শুরু হয়েছিল।

গত বছর অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও একই পথে এগোতে শুরু করে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হলো চট্টগ্রাম বন্দর। তাহলে যে সাইজের হৃৎপিণ্ড আছে, ওই সাইজে চলে না। এই হৃৎপিণ্ড বিশ্ব সাইজের হৃৎপিণ্ড হতে হবে।

“কাজেই আমরা বললাম যে পৃথিবীর সেরা বন্দর ব্যবস্থাপক যারা আছে, তাদের ডাক। দেখলাম যে আগেই ডাকা হয়েছে, কিন্তু কাজটা হচ্ছে না। বারবার সবার কাছে আবেদন করছি– এটা তাড়াতাড়ি করে দাও।”

এরপর থেকে বন্দরকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিরোধিতা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশি-বিদেশি কোনও সংস্থাকে না দিয়ে নিজেরাই এই টার্মিনাল পরিচালনার সিদ্ধান্ত সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

গৃহযুদ্ধপীড়িত মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশের কক্সবাজার দিয়ে একটি করিডোর প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে গত এপ্রিলে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বিরোধিতার মুখে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করিডোর নয়, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চ্যানেল তৈরি নিয়ে কাজ হচ্ছে।

এরপর বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেন যে রাখাইনে মানবিক সহায়তার জন্য করিডোর প্রতিষ্ঠার কোনও আলোচনায় জাতিসংঘ যুক্ত নয়।

এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ মাসের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, রাখাইনে মানবিক করিডোর দেওয়ার খবরটি ‘চিলে কান নিয়ে যাওয় ‘র গল্পের মতো। এমন কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি।

রোড মার্চ আহ্বানকারী বাম দলগুলোর অভিযোগ, নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি যুদ্ধচক্রে জড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এগুলো সফল হলে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ নানা শক্তির দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও ছায়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রে আধিপত্য বাড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকার যে মার্কিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি স্টারলিংককে এদেশে ব্যবসার লাইসেন্স দিয়েছে, তারও বিরোধিতা করছে বাম দলগুলো। তারা বলছে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কারণ ইলন মাস্কের এই কোম্পানি শুধু ইন্টারনেট সেবাই দেয় না, দেশে দেশে সামরিক ও রাজনৈতিক নজরদারিও চালায়।

সামরিক শিল্পের মতো স্পর্শকাতর খাতে তুরস্ক ও কাতারকে অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণে অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানের সমালোচনাও করছে রোড মার্চকারীরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found