গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।
সাবেক বিচারপতি মো. আবু তারিককে এই কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে। কমিশনকে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ এর সেকশন ৩ অনুযায়ী গঠন করা এই কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলাম, ২১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহীদুর রহমান ওসমানী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক সরদার নূরুল আমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
গোপালগঞ্জের সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠন করা তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।
কমিশনের কার্যপরিধির বিস্তারিত তুলে ধরে প্রেস উইং জানিয়েছে- কমিশন ওই ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটন করবে। এনসিপির জনসভায় আক্রমণের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংগঠনকে চিহ্নিত করবে। সহিংস ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ দেবে। সহিংসতার সময়ে জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার বিষয়সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ঘটনা বিশ্লেষণ করে মতামত দেবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ জানাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপির পদযাত্রা উত্তরাঞ্চল ঘুরে দক্ষিণাঞ্চল হয়ে ১৬ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে।
পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত হন আরও অনেকে।
সংঘর্ষের পর গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এরই মাঝে এনসিপি নেতারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে গোপালগঞ্জ ছাড়েন। পরে গোপালগঞ্জে জারি করা হয় কারফিউ।
তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে প্রেস উইং জানায়, এনসিপির পূর্বনির্ধারিত জনসভায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করে।
নতুন গঠিত তদন্ত কমিশন প্রয়োজনে উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে সদস্য হিসাবে কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ তদন্ত কমিশনকে সাচিবিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা দেবে ও কমিশনের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করবে। এ বিভাগ কমিশনকে সহায়তার জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত যে কোনও ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে পারবে।



