গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার চার্জ গঠন চ্যালেঞ্জ করে আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল এ বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ঠিক করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহেমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করে দেয়।
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা। দেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচদিনের মাথায় ১১ আগস্ট দুদক নিজ উদ্যোগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন জানিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু ড. ইউনূস এভাবে তড়িঘড়ি করে মামলা প্রত্যাহার করার পক্ষে নন জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় পুরো বিয়ষটি নিষ্পত্তি চান বলে জানান তার আইনজীবী।
এর আগে এ মামলার অভিযোগ গঠন চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন জানালেও বিফল হয়েছিলেন ড. ইউনূস।
গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩০ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। পরে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে গত বছরের ১২ জুন অভিযোগ গঠন করে আদালত।
আপিল বিভাগে ড. ইউনূসের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওই অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আমরা হাই কোর্টে এসেছিলাম, কোয়াশমেন্ট (মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে) চেয়ে আবেদন করি। কিন্তু হাই কোর্ট এটি খারিজ করে। হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে যাই। আপিল বিভাগ বলল, এই মামলা চলে না, কারণ মামলা তো সেখানেই বাতিল হয়ে গেছে।”
ব্যারিস্টার মামুন বলেন, “তখন আমরা বললাম যে, মামলা বাতিল হয়নি, কারণ মামলা প্রত্যাহারও হয়নি। যা হয়েছে বেআইনি। উনি (ড. ইউনূস) ক্ষমতা এসেছেন ৮ তারিখ (আগস্ট), ১১ তারিখ কোনও নোটিশ ছাড়া বিনা কারণে এতবার নোটিশ দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করেছ, রাতারাতি মামলা বাদ দেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই। এটাই আদালতকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হলাম। তখন আদালত কোয়াশমেন্ট আবেদনেও শুনানি নিয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় ড. ইউনূস নিজেও বিষ্মিত হয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী।
তিনি বলেন, “ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আইনগতভাবে যা হয়, যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই তাহলে দোষীর সাজা মেনে নেব। এটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করব’। তাই কোর্টকেও আমরা বললাম, আইনের মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।”
শুনানিতে ব্যারিস্টার মামুন বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। শ্রমিকের স্বচ্ছ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তাদের টাকা বিতরণ হয়েছে। এটা কোম্পানির টাকা না। এখানে উনাকে মিথ্যাভাবে হয়রানি ও অপমাণ করার জন্য এই মামলা করা হয়েছিল। এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে।”



