অভ্যুত্থানের পর বছর গড়াতে চললেও নানা ষড়যন্ত্র এখনও চলছে দাবি করে তা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার ঘোষণা এল ছাত্রদলের সমাবেশ থেকে।
গত বছর যে দিন শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি উঠেছিল, এই বছরের সেই দিন রবিবার ঢাকার শাহবাগে সমাবেশ করে এই ঘোষণা দেয় বিএনপির ছাত্র সংগঠনটি।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তাবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসাবে তুলে ধরে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে চলছে দেশের বিরুদ্ধে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। তাদের হুঁশিয়ারি জানাচ্ছি, যদি বুকে সাহস থাকে, তাহলে ছাত্রদলের মুখোমুখি আসতে।
“ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ছাত্রদল সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। যেদিন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান নির্দেশ দেবেন, সেদিন ছাত্রদলের লাখ লাখ নেতা-কর্মী রাজপথে বীরের ভূমিকা পালন করবে।”
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের পাশের দেশে ভারতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে হুমকি দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে আক্রমণ করবে। শুধু তাই নয় এখানে বিভিন্নভাবে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
“আজকের এই সমাবেশ থেকে আমাদের শপথ নিতে হবে, আমরা আর কোনোদিনই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেব না। শপথ নিতে হবে, কারও কাছে কোনোদিন মাথা নত করব না।”
সমাবেশের প্রধান অতিথি তারেক রহমান বলেন, “যে সংগঠনে তোমাদের মতো সাহসী সন্তান রয়েছে, তাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তোমাদের সঙ্গে আছে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী-তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও এদিন ঢাকায় সমাবেশ ডাকায় ছাত্রদলের এই সমাবেশ দৃশ্যত জনসমাগমের প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছিল।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিব সমাবেশে বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছিল গত বছরের জুলাই আন্দোলনে। শেখ হাসিনা পতনের এক দফা দাবি প্রথম তারেকই তুলেছিলেন।
তিনি বলেন, “১৬ জুলাই যেদিন আবু সাঈদকে, ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামকে হত্যা করা হয়েছিল, সেদিন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সর্বপ্রথম এক দফা দাবি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, খুনি হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি টানতে হবে।”
তারেক রহমানের সেদিনের িভডিও বার্তাটি সমাবেশে দেখানো হয়। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “স্বাধীনতা রক্ষা, দেশের মানুষকে রক্ষায় স্লোগান হোক- দফা এক, দাবি এক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ।”
রাকিব বলেন, “আমরা ক্রেডিট নিতে চাই না। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদল নেতৃত্ব দিয়েছে। যে বা যারা জুলাই অভ্যুত্থানের খণ্ডিত চিত্র বা মনগড়া ইতিহাস তৈরির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হবে।”
ডাকসুসহ বিভিন্ন শিক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নেবে জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, তবে তার আগে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাীদের তালিকা করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা কেউ করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে স্থিতিশীলতা রক্ষায়, শত উসকানি, শত মব সন্ত্রাস এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রপাগান্ডা মোকাবেলা করে চলছে ছাত্রদল।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ স্বীকারের কথা তুলে ধরেন।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রতিশোধের রাজনীতি জনগণ আর চায় না, জনগণ চায় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন। তাই কথামালার রাজনীতি নয়, আমরা শুরু করি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি।”
ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের জ্ঞানার্জনের পরামর্শ দিয়ে তারেক বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তার একটি ধারণা দেন।
তিনি বলেন, “বিএনপির আগামী দিনের নীতি হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির রাজনীতি।”
আসন্ন ভোটের আগে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের একটি স্লোগান সারাদেশে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক। তিনি বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট- ধানের শীষের জন্য হোক।”
শাহবাগ মোড়ে এই সমাবেশের কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা শহীদ মিনারে এই সমাবেশ করতে চেয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতিও নিয়েছিল। কিন্তু এনসিপির অনুরোধে তাদের সেই স্থানটি ছেড়ে দিয়ে তারা শাহবাগে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়।
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিনটিতে আমাদেরকে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির বৃহৎ ঐক্যের স্বার্থে বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও উদারতার জায়গা থেকে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।”



