যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার অভিযোগ, জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মনজুরুল ইসলাম এবং নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ যৌন হয়রানি করেছিলেন তাকে।
এর আগে একটি দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানারা কাঠগড়ায় তুলেছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে। বিসিবি সেটা এড়িয়ে গেলেও যৌন হয়রানির অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১২টার সময় দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের এক সদস্যের মাধ্যমে গণমাধ্যমে উত্থাপিত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে। বিসিবি সর্বদা তার খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বোর্ড এ ধরনের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’

জাহানারা জানিয়েছেন, বিসিবির সিইওর কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথা। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সিইওর কাছে জানতে চেয়েছেন- তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং কবে পেয়েছিলেন। যদি পেয়ে থাকেন, তবে কেন তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) কর্মরত থাকেন, তবে সিইওকে অবিলম্বে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে হবে।
সিইওকে আইন বিভাগ (লিগ্যাল টিম)-এর সহযোগিতায় দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি বোর্ডে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে। তদন্তের ভিত্তিতে সিইও ভুক্তভোগীকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেবেন।

সিইওকে ক্রিকেট অপারেশন্স/মহিলা উইং-এর সঙ্গে যৌথভাবে নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে এর প্রতিবেদন বোর্ডে জমা দিতে হবে।
এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আজ ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘জাহানারা আলম যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, সবগুলোই গুরুতর এবং সেসব সত্যি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। শুধু একজন জাতীয় ক্রিকেটার বা সাবেক অধিনায়ক বলেই নয়, যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটার হোক বা যে কোনো খেলার ক্রীড়াবিদ কিংবা যে কোনো নারী, কারো প্রতিই এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

তামিম আরও লিখেন, ‘‘বিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বটে। তবে আমি মনে করি, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা সরকারী পর্যায়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত, যেখানে বিসিবি সংশ্লিষ্ট কেউ থাকবেন না, যাতে বিন্দুমাত্র পক্ষপাতের সুযোগ না থাকে। যত দ্রুত সম্ভব এই কমিটি গঠন করা উচিত ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপারটিকে দেখা উচিত। দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে দোষী যে-ই হোক, যার যতটুকু দায় থাকুক, উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’’
জাহানারার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও, ‘‘আশা করি, বিসিবির তদন্ত কমিটি পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করবে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যেন এসবের পুনরাবৃত্তি আর কখনো না হয়।’’



