Beta
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
Beta
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

কাবুল কি প্রথম ভূগর্ভস্থ পানিশূন্য শহরের পথে

kabul
[publishpress_authors_box]

আফগানিস্তানের রাজধানী ও প্রাচীন শহর কাবুল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই পুরোপুরি পানিশূন্য হয়ে যাবে। তখন ৬০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার কাবুল হবে বিশ্বের প্রথম শহর যেখানে পানি ফুরিয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন সতর্কতাই দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা মার্সি কর্পস। প্রতিষ্ঠানটির মতে, কাবুলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পরিমাণে পানি উত্তোলন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

সঙ্কটের গভীরতা

মার্সি কর্পসের গত এপ্রিলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে কাবুলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৫ থেকে ৩০ মিটার বা ৮২ থেকে ৯৮ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। প্রতিবছর সেখানে প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানি যে পরিমাণে পূরণ হওয়ার কথা, তার চেয়ে ৪৪ মিলিয়ন ঘনমিটার বেশি পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, এমনটা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে কাবুলের সব ভূগর্ভস্থ জলাধার শুকিয়ে যাবে। আর এতে শহরটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। ফলাফল হিসেবে শহরটির প্রায় ৩০ লাখ মানুষ স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে কাবুল শহরের প্রায় অর্ধেক গভীর নলকূপ ইতোমধ্যেই শুকিয়ে গেছে। এই নলকূপগুলোই শহরের প্রধান পানির উৎস।

পানি দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, কাবুল শহরের ভূগর্ভস্থ পানির ৮০ শতাংশই এখন নিরাপদ নয়। এই পানিতে পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য, আর্সেনিক ও লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা

বিশেষজ্ঞরা এই সঙ্কটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, এমনটা বলছেন। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, সুশাসনের ঘাটতি এবং শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ অন্যতম। ২০০১ সালেও শহরটিতে ১০ লাখের কম মানুষ বাস করত। কিন্তু এখন সেখানে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বাস।

দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপও এই সঙ্কটে ভূমিকা রেখেছে। কারণ এর ফলে অনেক বেশি মানুষ কাবুলে চলে আসে। দেশের অন্যান্য অংশে শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

কাবুল পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আসিম মায়ার বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ ও উত্তোলনের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এই পূর্বাভাস করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তাই পূর্বাভাসটি বিশ্বাসযোগ্য।”

তিনি বলেন, “সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে, এমন ইঙ্গিত এই দৃশ্যপট থেকে পাওয়া যাচ্ছে।”

আফগানিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রফেশনালস নেটওয়ার্কের সদস্য ও গবেষক নাজিবুল্লাহ সাদিদ বলেন, ঠিক কবে কাবুলে শেষ কূপটিও শুকিয়ে যাবে, তা বলা কঠিন। তবে তিনি কাবুলের পানির তীব্র সমস্যার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না, শেষ কূপটি কবে শুকাবে। কিন্তু আমরা জানি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যত নিচে নামবে, তত গভীর জলাধারগুলোর ক্ষমতা হ্রাস পাবে। আমরা জানি শেষটা আর বেশি দূরে নয়।”

অতিরিক্ত উত্তোলন ও অসমতা

কাবুলের অধিকাংশ মানুষ ভূগর্ভস্থ কূপের ওপর নির্ভর করে। পানির স্তর নিচে নামতে থাকায় বাসিন্দারা আরও গভীর কূপ খুঁড়ে কিংবা নতুন স্থানে কূপ বসিয়ে পানির সন্ধান করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ড্রিল করা কূপ রয়েছে। মার্সি কর্পসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল কাবুল শহরেই আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার অনিয়ন্ত্রিত কূপ রয়েছে।

২০২৩ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কাবুল শহরের ৪৯ শতাংশ কূপ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। বাকি কূপগুলোও মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।

সাবেক প্রভাষক ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আসিম মায়ার এই সঙ্কট সম্পর্কে বলেন, এটি শহরের ধনী-গরিবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখিয়ে দিচ্ছে। ধনীরা আরও গভীর কূপ খুঁড়তে সক্ষম। ফলে দরিদ্র মানুষের পানির নাগাল আরও কমে যাচ্ছে। এই সঙ্কটের প্রথম শিকার হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শহরের রাস্তার দৃশ্যে। কাবুলের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ইপিটিডিওর পরিচালক আব্দুল হাদি আচাকজাই বলেন, এখন অনেক জায়গায় সরকারি পানির ট্যাপ কিংবা বেসরকারি ট্যাংকারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুরা প্রতিদিন পানি খুঁজে বেড়ায়।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা, এমনকি রাতেও যখন আমি অফিস থেকে ফিরি, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দেখি হাতে পানির ছোট ক্যান নিয়ে পানি খুঁজে ফিরছে… তাদের মুখে হতাশা। পড়াশোনা কিংবা খেলাধুলার বদলে জীবন চালাতে তাদের এভাবে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।”

জলসম্পদ গবেষক নাজিবুল্লাহ সাদিদ বলেন, কাবুলের ইতোমধ্যেই কমে যাওয়া পানি সম্পদ আরও বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে শহরের ভেতরে থাকা পাঁচশর বেশি পানীয় ও মিনারেল ওয়াটার কোম্পানির মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠানই কাবুলের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর একটি হলো আফগানিস্তানের জনপ্রিয় সফট ড্রিংক কোম্পানি আলোকোজাই। সাদিদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান এক বছরে প্রায় ১০০ কোটি লিটার (২৫৬ মিলিয়ন গ্যালন) পানি উত্তোলন করে। দৈনিক হিসেবে যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ লিটার।

আল জাজিরা গত ২১ জুন আলোকোজাই কোম্পানিকে তাদের পানি উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন পাঠায়। তবে এখনও তাদের পক্ষ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি।

সাদিদ জানান, কাবুল শহরে ৪০০ হেক্টরের বেশি এলাকা জুড়ে সবজি উৎপাদনের জন্য গ্রিনহাউস রয়েছে। এসব গ্রিনহাউস প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি লিটার পানি ব্যবহার করে। তার ভাষায়, “পানি ব্যবহারের তালিকা অনেক দীর্ঘ।”

ঘন ঘন খরা, অল্প তুষারপাত ও দ্রুত বরফ গলে যাওয়া

কাবুলে পানির ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মার্সি কর্পসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাবুলের ভূগর্ভস্থ জলাধার পূরণ হয় কাবুল, পাগমান ও লোগার নদী দিয়ে। এগুলোর প্রধান উৎস হলো হিন্দুকুশ পর্বতমালার বরফ ও হিমবাহ গলে আসা পানি। কিন্তু অক্টোবর ২০২৩ থেকে জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত শীত মৌসুমে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টিপাতের মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ হয়েছে। আর এটি আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।

কাবুল পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক আসিম মায়ার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সঠিকভাবে পরিমাপ করা কঠিন। তবে তিনি স্বীকার করেন, অতিমাত্রায় খরা, তুষারপাতের ঘাটতি ও বরফের আগেভাগে গলে যাওয়ার মতো ঘটনা ভূগর্ভস্থ পানির পুনরায় পূরণ কমিয়ে দিয়েছে।

আফগানিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রফেশনালস নেটওয়ার্কের সদস্য সাদিদ বলেন, তাপমাত্রা বাড়ায় বাষ্পীভবন বেড়েছে। ফলে কৃষিক্ষেত্রে পানির ব্যবহারও অনেক বেড়ে গেছে।

আফগানিস্তানের অনেক প্রদেশেই পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে। তবুও সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কাবুলেই। শহরটির জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সঙ্কট সেখানে অনেক গভীর।

কয়েক দশকের যুদ্ধ

সাদিদ মনে করেন, কাবুলের এই সঙ্কট জলবায়ু পরিবর্তনের বাইরেও আরও গভীর। বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ, দুর্বল প্রশাসন ও সাহায্যনির্ভর দেশের ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

গত দুই দশকে আফগানিস্তানে যে অর্থ প্রবাহিত হয়েছে, তার বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষায়। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এই অর্থ ব্যবহার হচ্ছে মানবিক সঙ্কট মোকাবিলায়। ফলে পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

কাবুল পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক আসিম মায়ার বলেন, সরকারের এই দুর্বলতা কেবল বড় বড় বাঁধ, খাল কিংবা পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। এমনকি পলিমাটি পরিষ্কারের মতো মৌলিক কাজও ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না।

তার কথায়, “এই সঙ্কট এখনকার কর্তৃপক্ষের (তালেবান সরকারের) ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। যে শহরগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হয়, সেখানে শক্তিশালী পানি প্রশাসন ও অবকাঠামো এই ধরনের প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু কাবুলে এই সক্ষমতা নেই। বর্তমান কর্তৃপক্ষ বিদেশি সাহায্য ছাড়া সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।”

ফলে পরিবেশ-সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো পিছিয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

মায়ার বলেন, “তালেবান ক্ষমতায় আসার পর অনেক প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়ানোর প্রকল্পও ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতারা এখন আর এসব প্রয়োজনীয় পানিসংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন বা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।”

সাদিদ একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন। জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ এবং ইউরোপীয় কিছু সংস্থার অর্থায়নে একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু হয়েছিল। প্রকল্পটি শেষ করা গেলে প্রতি বছর কাবুলের বিভিন্ন এলাকায় লোগার অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে ৪৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হতো।

কিন্তু বর্তমানে এই প্রকল্পটিও স্থগিত রয়েছে। অথচ ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার পতনের সময় প্রকল্পটির দুই-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।

ঠিক তেমনই ২০২১ সালে ভারত ও গনি সরকার মিলে কাবুল নদীর ওপর শাহ-তূত বাঁধ নির্মাণের একটি চুক্তি করেছিল। সাদিদের মতে, এই বাঁধ নির্মিত হলে কাবুল শহরের বড় অংশে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

পানির সঙ্কট মোকাবেলায় করণীয় কী

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাবুল শহরের ভয়াবহ পানির সঙ্কট মোকাবেলায় সবচেয়ে আগে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো শহরের পানি অবকাঠামোর উন্নয়ন। এটি হবে সঙ্কট সমাধানের প্রথম ধাপ।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ আসিম মায়ার বলেন, “শহরের চারপাশে মৌলিক পানি অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম উপায়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণ করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই ভিত্তিগুলো স্থাপন করা গেলে, পরবর্তীতে পুরো শহরজুড়ে পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

পরিবেশবাদী ও উন্নয়ন সংস্থা ইপিটিডিওর পরিচালক আব্দুলহাদি আচাকজাইও এই মতের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এই সঙ্কটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আচাকজাই বলেন, “শহরে পার্শ্ববর্তী নদীগুলোর (যেমন পানশির নদী) পানি এনে নতুন পাইপলাইন বসানোর পাশাপাশি, ভূগর্ভস্থ জলাধার পূরণের জন্য ছোট ছোট বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ করতে হবে। এসব কাঠামো বর্ষার পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রাখবে।”

তার মতে, “আফগান সরকারকে পুরনো এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া পানির পাইপ ও সরবরাহ ব্যবস্থাগুলো নবায়ন করতে হবে। অবকাঠামো আধুনিক হলে পানির অপচয় কমবে এবং সরবরাহের দক্ষতাও বাড়বে।”

তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা আফগানিস্তানের জন্য সহজ নয়। কারণ দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে।

আচাকজাই বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তান প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, তহবিল ও সংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এগুলো পানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

এই অবস্থায় কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে, খাদ্য সঙ্কট বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাও তীব্রতর হচ্ছে। ফলে অনেক মানুষকে বাধ্য হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে হচ্ছে।

এটি শুধু পানি সঙ্কট নয়। এটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সঙ্কট। এর সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found