Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল উৎসব

শেখ মোরসালিনের গোল উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ মোরসালিনের গোল উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত
[publishpress_authors_box]

শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই পুরো গ্যালারি মেতে উঠে বিজয়ের আনন্দে। খেলোয়াড়-কোচরা মাঠে মেতেছেন ১-০ গোলে জয়ের উৎসবে। এই জয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গ্রুপে খুব হেরফের হবে না। তাতে কী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল ঐতিহ্যের ভারতকে হারানোর আনন্দই অন্যরকম। উৎসবের মজাই আলাদা। অবশেষে সেই গৌরবের অনুভূতি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়-দর্শকরা।

ঢাকা স্টেডিয়াম, এই মাঠে ২০০৩ সালে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে হারিয়েছিল ভারতকে। এরপর মালদ্বীপকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বছর পর আবার লাল-সবুজের দল বিজয়ীর বেশে ঢাকা স্টেডিয়ামে।

দুর্দান্ত এক কাউন্টারে ছত্রখান ভারতীয় রক্ষণ। তার ফল, মোরসালিনের গোল। সেই ১-০ গোলের লিড নিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

ম্যাচে খুব ভাল ফুটবল হয়েছে, তা নয়। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ সবসময় চাপের। সঙ্গে নিজেদের মাঠে খেলা হওয়ায় স্নায়ুচাপে বেশিই ভুগেছে সোহেল-তপুরা।

১১ মিনিটে সেই চাপ উতরানো প্রথম দৌড় দেখা গেছে রাকিবের পায়ে। সেটা ছিল ভারতের লম্বা থ্রো ইন থেকে। তাদের প্রায় সবাই উঠে গিয়েছিল বাংলাদেশের বক্সে। কিন্তু সেখান থেকে দুর্দান্ত মোরসালিনের পায়ে শুরু চমৎকার এক কাউন্টার অ্যাটাক। তার লং পাসটি ধরে রাকিব দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকেন প্রতিপক্ষের দিকে। একটা সময় মার্কার আকাশ মিশ্রকে গতিতে ছিটকে ফেলে বল ঠেলেন মোরসালিনের কাছে। এই ফরোয়ার্ডের ডান পায়ের নিখুঁত টাচে পুরো ঢাকা স্টেডিয়ামে আনন্দের বন্যা বইয়ে যায়। মাত্র ৩ টাচেই অপূর্ব এক গোল। এর চেয়ে চমৎকার কাউন্টার আসলে হতেই পারে না।

বিরতিতে যাওয়া পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখলেও ৩১ মিনিটে গোল হজমের আয়োজন প্রায় করেই ফেলেছিলেন গোলরক্ষক মিতুল ও অন্য ডিফেন্ডাররা মিলে। বাঁচালেন হামজা চৌধুরী। গোলরক্ষকহীন পোস্ট পাহারা দিয়ে তিনি হেডে ক্লিয়ার করেছেন ভারতীয় মিডফিল্ডার চাংতের শট। বিরতিতে যাওয়ার আগে হামজার বুলেট গতির ভলিটি পোস্টে থাকলে হয়তো লিডটা আরও বড় হতো।

বিরতির পর আসলে কোনও খেলাই হয়নি। বাংলাদেশ খেলারই চেষ্টা করেনি। খেলতে গেলে যদি উল্টো গোল খেয়ে বসে- খেলতে খেলতে এমন অঘটনের শিকার তো আর কম হয়নি। এই বাছাই পর্ব জুড়েই দুর্ভাগ্য। তাই ভয়ে শমিত-রাকিবরা মাঝমাঠের দখল রেখে খেলারই চেষ্টা করেনি। উল্টো ওই গোলটি ধরে রাখতে সবাই মিলে খেলে গেছে রক্ষণাত্মক ফুটবল। খুব চাপ গেছে পুরো দলের ওপর, বিশেষ করে গোলরক্ষক মিতুল মারমার ওপর। গোলরক্ষক ভুল করে বসলে আবার যদি সেই এক পরিণতি হয়। তাই দর্শক-সমর্থকরাও খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে উপভোগ করতে পারেনি খেলাটা।

ওদিকে প্রতিপক্ষ ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছিল গোল শোধের জন্য। আক্রমণের তোপে খেলাটা তখন বাংলাদেশের অর্ধেই নেমে আসে। তবে পরিষ্কার সুযোগ তারা তৈরি করতে পারেনি। হামজার নেতৃত্বে সফলভাবে রক্ষণভাগ সামলে গেছে পুরো দল। এই কৃতিত্বে বাংলাদেশ অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে। তবে সেটা এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পঞ্চম ম্যাচে এসে! একটু বেশি সময়ই নেওয়া হয়ে গেল। অথচ এই জয়টা আসতে পারতো ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচেই। সেটা ছিল বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচ। যেখানে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে রাকিব-ফাহিমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেও বল জালে পাঠাতে পারেনি। এরপরও কয়েকটি ম্যাচে তারা ভালো ফুটবল খেলে হতাশায় ডুবেছে শেষ মুহূর্তের গোলে।

তাই নানামুখী সমালোচনায় বিঁধে বাংলাদেশ গোলের পর আর খেলারই চেষ্টা করেনি। গোলটা শেষপর্যন্ত ধরে রেখেই সেই দুর্ভাগ্যের জট খুলেছে ঢাকা স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশ : তপু বর্মন, শেখ মোরসালিন (শাহরিয়ার ইমন), হামজা চৌধুরী, রাকিব হোসেন, ফয়সাল ফাহিম, মিতুল মারমা, তারিক কাজী (শাকিল আহাদ), সোহেল রানা, জায়ান আহমেদ, সাদ উদ্দিন, শমিত সোম।

ভারত : গুরপ্রীত, রাহুল, আনোয়ার, সন্দেশ, নিখিল প্রভু, লালিয়ানজোয়ালা চাংতে (ফার্নান্দেস), সুরেশ, রহিম (এডমুন্ড), নিকসন (সান), আকাশ, বিক্রম।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found