চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচিত ‘সেন্সর বোর্ড’ এর তকমা ঝেড়ে ‘সার্টিফিকেশন বোর্ড’ হিসেবে সোমবার প্রথম সভায় বসতে যাচ্ছে।
চলচ্চিত্রকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে চলচ্চিত্র ‘সার্টিফিকেশন বোর্ড’ নামকরণ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশদের তৈরি ১৯১৮ সালের সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট ১৯৫২ সালে পরিবর্তিত হয়ে ‘ইস্ট বেঙ্গল বোর্ড অব ফিল্ম সেন্সর’ নামকরণ হয়। নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, মানচিত্রের বদল ঘটলেও বিগত ৭২ বছরে চলচ্চিত্রকে শাসনের রীতি বদলায়নি।
২০২৪ সালে এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে বিগত সরকারের পদক্ষেপটির বাস্তবায়ন ঘটে। তুলে নেয়া হয় ‘সেন্সর’ শব্দটি।
তবে, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে নামবদল হলেও চলচ্চিত্রের শাসনরীতি প্রায় একই থাকছে সার্টিফিকেশন বোর্ডের নীতিমালাতেও। সদ্যগঠিত বোর্ডের সদস্যরাও তাই কিছুটা বিব্রতও বটে।
কেননা গণভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে সিনেমা নির্মাতাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল চলচ্চিত্র মাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে আমূল বদলে ফেলা হবে ফিল্ম সেন্সর রীতি, আনা হবে রেটিং প্রথা।
সেই প্রথা চালুর চাপ নিয়েই ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বসতে যাচ্ছে নবনিযুক্ত বোর্ড।
বোর্ডের অন্যতম সদস্য নির্মাতা খিজির হায়াত খান সকাল সন্ধ্যাকে জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড সিনেমা দেখতে বসছে আগামী সোমবার।
তবে সার্টিফিকেশন বোর্ড ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি যৌথ সভায় বসেন কমিটির সদস্যরা।
খিজির হায়াত খান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “যৌথ সভায় আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তা হলো- সিনেমা প্রদর্শন চালু রাখার জন্য নিয়মিত সিনেমা দেখা। দ্বিতীয়ত, কোন কোন চলচ্চিত্র বিগত বোর্ড আটকে রেখেছে, তার কারণ অনুসন্ধান ও ছবিগুলোর মুক্তির ব্যবস্থা করা। তৃতীয়ত, সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডকে সময়োপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ।”
খিজির হায়াত আরও বলেন, “যে কাজটি আমরা শুরু করতে যাচ্ছি তা অত্যন্ত কঠিন। একটু সময় লাগবে বিধিগুলো সংস্কার করে চলচ্চিত্রবান্ধব করতে। অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। আপাতত সিনেমা হলে যেন চলচ্চিত্রগুলো নিয়মিত মুক্তি পেতে পারে সে দিকে নজর দিচ্ছি আমরা।”
তিনি জানান, প্রথমদিন ‘ভয়াল’ ও ‘রাজকুমারী’ নামে দুটি চলচ্চিত্র দেখবে সার্টিফিকেশন বোর্ড।



