Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

dhaka-medical-college_1
[publishpress_authors_box]

আবাসন সংক্রান্ত জটিলতা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মেডিকেল কলেজের চলমান অবস্থার নিরসনের লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে কলেজের এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীদের ২২ জুন বেলা ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

তবে এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও বিদেশী শিক্ষার্থীরা এর আওতামুক্ত থাকবে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

শিক্ষার্থীরা গত প্রায় ১ মাস ধরে সব ধরনের ক্লাস বর্জন করে আসছে।

ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আবাসন ব্যবস্থার সমস্যার ও জরুরি সমাধান প্রসঙ্গে গত ৬ জুন শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত বিবৃতি দেয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরনো অ্যাকাডেমিক ভবন, ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস ও ডা. আলীম চৌধুরী ছাত্রীনিবাস পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। একইসঙ্গে পাঠদান ও বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এমন অবস্থায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হলে অবস্থান ও অ্যাকাডেমি কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব নয়।

তাই বিকল্প আবাসন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

শিক্ষার্থীদের ওই বিবৃতিতে তাদের দাবিগুলো ছিল, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজেট পাশ করতে হবে। নতুন আবাসন ব্যবস্থা তৈরির আগ পর্যন্ত বসবাসের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন আবাসন ও বিকল্প আবাসনের বাজেট পৃথকভাবে পাশ করে জলদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ নিতে হবে।

একইসঙ্গে পুরনো অ্যাকাডেমিক ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্যত্র স্থানান্তর ও নতুন ভবনের জন্য বাজেট পাশ করতে হবে।

এসব দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ওয়ার্ড ও অভ্যান্তরীণ পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অধ্যক্ষ ও ঢাকা মেডিকেলের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভাপতি ডা. অধ্যাপক কামরুল আলম সকাল সন্ধ্যাকে জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা দ্রুত হোস্টেল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। এর মধ্যে কলেজের পুরোনো একটি ছাত্রাবাস বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে সেখানে কয়েকজন ছাত্র এখনও থাকছেন। তাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেও, তারা সেখানে থাকছেন।

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন ও হোস্টেলের অবকাঠামোগত ‘দুরাবস্থা’ নিয়ে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছেন। এতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে শনিবার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা হয়।

ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস।

সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল একমত পোষণ করেছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে তারা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দৃশ্যমান ফল পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনড়। গণপূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যে ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসের মূল ভবনের চতুর্থ তলাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। বিকল্প আবাসন নিশ্চিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের অসহযোগিতার কারণে তা খালি করা যায়নি।

এ পরিস্থিতি অবস্থানরতদের জীবনের জন্য ‘অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ’ বর্ণনা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর মধ্যে নতুন ব্যাচ কে-৮২ ‘স্বপ্রণোদিত’ হয়ে অথবা ‘প্ররোচিত’ হয়ে তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বয়কট করেছে। এটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’।

ফলে কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবছর নতুন ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের এমবিবিবিএস শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ বছর ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবশেষে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল বিশ্বাস করে ছাত্র ছাত্রীদের সহযোগিতায় এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found